33 C
Kolkata
May 25, 2026
Uncategorized

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক আরজি কর নির্যাতিতার মায়ের, মমতাকে তীব্র কটাক্ষ বিজেপি বিধায়কের

কলকাতা — আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসক-পড়ুয়ার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।

সোমবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে রত্না জানান, তিনি নবান্নের ১৪ তলায় রয়েছেন। যে দপ্তরে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসতেন, সেখানেই বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে।

পোস্টে রত্না লেখেন, ‘সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।’ এর পরেই তিনি লেখেন, ‘আজ আমি এবং মমতা দু’জনেই সর্বহারা। আমি একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিজ্ঞায় ব্রতী হয়েছি। আর উনি ওঁর ১৪ তলার গদি হারিয়েছেন।’

এখানেই থামেননি পানিহাটির বিধায়ক। তিনি আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও করুণ রাজনৈতিক পরিণতি দেখতে পাবেন মানুষ। পোস্টের শেষে রত্না লেখেন, ‘আমার পরিচয়, আমি ডক্টর দেবনাথের গর্বিত মা।’

উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্ট সম্প্রতি সিবিআইকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের পরিধি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

রত্না দেবনাথের অভিযোগ, তাঁর মেয়ের খুন এবং ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। সেই সন্দেহভাজনদের নাম উল্লেখ করে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মুখবন্ধ খামে আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

নবান্নে বৈঠকের পর রত্না বলেন, ‘বিধায়ক হলেও আমার জীবন থেকে সব আনন্দ হারিয়ে গিয়েছে। আমার একটাই লক্ষ্য, ন্যায়বিচার পাওয়া। যাঁদের নাম মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েছি, তাঁদের কথা আগেও তদন্তকারীদের জানিয়েছিলাম।’

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওই সময়ের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস আধিকারিক — বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে। নির্যাতিতার মায়ের এই মন্তব্য এবং নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment