কলকাতা: বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই নন্দিনী চক্রবর্তীই এবার বিজেপি পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে তাঁকে উন্নয়নমূলক কাজের ‘প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর’ পদে বহাল রাখা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগের পদেই রাখা হলেও এবার তাঁর দায়িত্বের পরিধি আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাই হবে নন্দিনী চক্রবর্তীর প্রথম বড় দায়িত্ব।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১১ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণেই নন্দিনী চক্রবর্তীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পরে তিনি রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব সামলান।
সূত্রের খবর, সীমান্ত সংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও নজরে রাখবেন তিনি। উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন নন্দিনী চক্রবর্তী।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁকে মুখ্যসচিব করা হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কারণ, একাধিক সিনিয়র আইএএস আধিকারিককে টপকে তাঁকে ওই পদে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল প্রশাসনিক মহলের একাংশে।
এরপর ১৫ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন নন্দিনী চক্রবর্তীকে মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেও তীব্র রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছিল।
কলকাতার লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর নন্দিনী চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত পরিচিত নাম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ আধিকারিক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রেখে দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
