কলকাতা: ভোট-পরবর্তী হিংসা, দলীয় কার্যালয়ে হামলা, বুলডোজার অভিযান এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে আনে শাসকদল।
আইনজীবীর পোশাকে আদালতে হাজির ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আদালতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছে এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা আক্রান্ত হয়েছেন।
তৃণমূলের তরফে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন জেলায় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বহু কর্মী-সমর্থক আতঙ্কে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও মহিলা এবং শিশুদের উপর হামলার অভিযোগও আদালতে তোলা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবহে তাঁদেরও টার্গেট করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুনানিতে কলকাতার মাছ বাজার এবং হগ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। অভিযোগ করা হয়, ভোটের ফল প্রকাশের পর পরিকল্পিতভাবে কিছু এলাকায় বুলডোজার চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তৃণমূলের আইনজীবীরা আদালতে ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি’ এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। ফলে আক্রান্তরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আদালতে তৃণমূলের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে শাসক এবং বিরোধী পক্ষের সংঘাত এখন আদালতের পর্যায়েও পৌঁছে গিয়েছে।
এদিকে হাই কোর্ট চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই আদালত চত্বরে রাজনৈতিক কর্মী, আইনজীবী এবং সংবাদমাধ্যমের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
