ঢাকা — বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ভোটারদের আচরণে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে উঠে এল এক রিপোর্টে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারে ইতিহাসের ব্যবহারই জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাঁরা সেই সব দলকেই সমর্থন করেছেন, যাদের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার রক্ষাকারী বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব দলকে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তির সঙ্গে যুক্ত মনে করা হয়েছে, তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন ভোটাররা।
বাংলাদেশের একটি শীর্ষ সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি তাদের প্রচারে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গকে ক্রমশ জোরালোভাবে তুলে ধরে। বিশেষ করে জামাত-ই-ইসলামির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে দলটি।
ইতিহাস অনুযায়ী, বিএনপি অতীতে জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন লড়েছিল। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামি লিগের অনুপস্থিতিতে জামাত-ই-ইসলামিই বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ফলে রাজনৈতিক কৌশল বদলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুনভাবে সামনে আনে বিএনপি।
নির্বাচনী প্রচারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ একাধিক নেতা জামাত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁদের বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা শক্তির হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায় না।
বিএনপি নেতারা অবশ্য স্বীকার করেছেন, অতীতে জামাতের সঙ্গে জোট ছিল শুধুমাত্র নির্বাচনী কৌশল, তা তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার সমর্থন নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ছিল মূলত মুক্তিযুদ্ধ-সংবেদনশীল ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা। আওয়ামি লিগ না থাকায় সেই ভোটব্যাঙ্ককে আকৃষ্ট করতে বিএনপি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে।
পরবর্তী নির্বাচনী ফলাফলেও এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী বহু ভোটার বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
previous post
