কলকাতা — উচ্চপ্রোফাইল বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ। বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে দুই দফার এই নির্বাচন, যেখানে প্রায় ৩.৬ কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
এই নির্বাচন পরিচালনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে Election Commission of India। প্রায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে ২.৪ লক্ষেরও বেশি জওয়ান দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি, প্রায় ৭,৩৮৪টি বুথকে ‘সুপার সেনসিটিভ’ বা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচন আগের তুলনায় কম ধাপে হচ্ছে—২০২১ সালে যেখানে আট দফায় ভোট হয়েছিল, এবার তা কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র দুই দফায়। তবে নিরাপত্তা ও নজরদারির দিক থেকে ব্যবস্থা অনেক বেশি কড়া করা হয়েছে।
এই দফায় শাসক All India Trinamool Congress ও প্রধান বিরোধী Bharatiya Janata Party-র মধ্যে তীব্র লড়াই প্রত্যাশিত। প্রায় ৮০টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বহু-কোণী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
দার্জিলিং থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর—বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভোট হবে এই দফায়। মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর, ই-মেল ব্যবস্থা, ব্রেইল-সক্ষম ইভিএম, র্যাম্প ও অগ্রাধিকারভিত্তিক লাইনের মতো সুবিধাও রাখা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) নিয়েও রাজনৈতিক তরজা চলছে। শাসক দল অভিযোগ করেছে, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কড়া নিরাপত্তা, ভোটার তালিকার পরিবর্তন এবং সংবেদনশীল বুথগুলির পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে এই দফার ভোটের চিত্র।
