37.2 C
Kolkata
June 20, 2026
রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বাংলায় শুভেচ্ছা মোদী-শাহের, তারকেশ্বরে কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুতি তুঙ্গে

হুগলি | ২০ জুন: পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসার আগে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইভাবে বাংলায় শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই বর্তমান রাজ্য সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করছে। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে বাংলায় পোস্ট করে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই রাজ্যের অবদান ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।”

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে। এর নেপথ্যে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান ছিল। ২০২৬ সালে আমরা তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি।”

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পীঠস্থান বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশ গঠনের প্রতিটি পর্যায়ে অসামান্য অবদান রেখেছে। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহামানবদের এই পবিত্র ভূমি আজ নতুন গৌরবের পথে এগিয়ে চলেছে।”

তারকেশ্বরে কড়া নিরাপত্তা

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সভাস্থল বালিগড়ি মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি ফুল দিয়ে। থাইল্যান্ড ও উটি থেকে আনা হয়েছে বিশেষ ফুল। পাশাপাশি রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও।

সূত্রের খবর, শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টা নাগাদ তারকেশ্বরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর এন রবি এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় ফিরে লোকভবনে রাত্রিযাপন করবেন। রবিবার সকালে কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

Related posts

Leave a Comment