আবাস প্লাস সমীক্ষায় চিহ্নিত আরও ২০ লক্ষ পরিবার
সংবাদ কলকাতা: রাজ্যের আবাসন প্রকল্পকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং প্রকৃত উপভোক্তাকেন্দ্রিক করে তুলতে একদিনেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম কিস্তির অর্থে লিন্টন স্তর পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করা ১০ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৮৯ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণের আওতায় চলা ‘আবাস প্লাস সমীক্ষা’-য় ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ সম্ভাব্য গৃহহীন পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নবান্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ হিসেবে একদিনেই ১০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। এই খাতে রাজ্য সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। তিনি জানান, প্রথম কিস্তির অর্থে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যাঁরা লিন্টন স্তর পর্যন্ত বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁরাই দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাচ্ছেন। এর ফলে বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের পাকা বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল।
রাজ্য সরকার একই সঙ্গে প্রকৃত গৃহহীনদের চিহ্নিত করতে আবাস প্লাস সমীক্ষার কাজও জোরকদমে চালাচ্ছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করছেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ পরিবারকে সম্ভাব্য উপভোক্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা অতীতে কেন্দ্র বা রাজ্যের কোনও আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের জন্য সমীক্ষার সময়সীমা আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রকল্প কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। সেই কারণেই পূর্ববর্তী সরকারের দেওয়া ‘বাংলার বাড়ি’ নাম পরিবর্তন করে প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতোই রাজ্যের প্রকল্পও যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যোগ্যরা সবাই সুবিধা পাবে। উপভোক্তাদের রং দেখব না, ধর্ম দেখব না।’
তিনি আরও জানান, আবাস প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র বাড়ি নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাড়ি সম্পূর্ণ হওয়ার পরে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় শৌচাগার নির্মাণের জন্য ১২ হাজার টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়া যাবে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
আবাসন প্রকল্পে অতীতের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আবাস প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত গৃহহীনদের পরিবর্তে বহু অযোগ্য ব্যক্তি তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবার প্রতিটি আবেদন এবং পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, পূর্ববর্তী সরকারের তৈরি প্রায় ৩০ লক্ষ আবেদনকারীর তালিকা পুনর্বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে, তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ আবেদনকারী প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেননি। তাই নতুন করে স্বচ্ছ সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের লক্ষ্য রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, প্রকৃত গৃহহীন মানুষের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক, দপ্তরের সচিব ড. পি. উলাগানাথন, অর্থদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত কুমার মিশ্র, মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত।
