34 C
Kolkata
September 21, 2026
খেলা

ফাইনালে উঠতে না পারলেও ইতিহাস গড়ে গর্বিত সুচিকা

নাগোয়া— ফাইনালে ওঠার জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তে থেমে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবু এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারতের প্রথম মিক্সড মার্শাল আর্টস পদক জিতে ইতিহাস গড়তে পেরে গর্বিত সুচিকা তারিয়াল।

২০২৬ এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল ৬০ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন সুচিকা। সিঙ্গাপুরের তেও হুই হুনের বিরুদ্ধে তাঁর সেমিফাইনাল ম্যাচের ফল নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। প্রথমে বিচারকদের সিদ্ধান্তে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল তেওকে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় ভারতীয় শিবির। এরপর ম্যাচটি যায় আরবিট্রেশনে।

সুচিকার কোচ নিখিল কুন্ডরের দাবি, আরবিট্রেশনের সময় তিন বিচারক ম্যাচটি নতুন করে স্কোর করেন। তিন বিচারকের নতুন স্কোরের পর ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করা হয়। এরপর এশিয়ান মিক্সড মার্শাল আর্টস অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের সামনে ছিল পাল্টা আরবিট্রেশনের আবেদন করা অথবা কম ওজনের প্রতিযোগীকে জয়ী করার নিয়ম বেছে নেওয়ার সুযোগ।


সিঙ্গাপুর দ্বিতীয় পথটিই বেছে নেয়। সুচিকার ওজন প্রতিপক্ষের থেকে প্রায় ৭০০ গ্রাম বেশি হওয়ায় কম ওজনের প্রতিযোগী হিসেবে জয় পান তেও। ফলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়ে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে।

নিখিল কুন্ডর বলেন, ভারতীয় শিবির নিশ্চিত ছিল যে সুচিকাই ম্যাচটি জিতেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে সুচিকা লড়াইটি জিতেছে। আরবিট্রেশন হলে তিন জন বিচারক বেছে নেওয়া হয়। তাঁরা ম্যাচটি আবার স্কোর করেন। নতুন করে স্কোর করার পর ফল ড্র হয়।’

এর পরেই ওজনের নিয়ম কার্যকর হয় বলে জানান সুচিকার কোচ। তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুর পাল্টা আরবিট্রেশনে না গিয়ে কম ওজনের প্রতিযোগীর নিয়ম বেছে নেয়। দুর্ভাগ্যবশত সুচিকার ওজন প্রতিপক্ষের থেকে ৭০০ গ্রাম বেশি ছিল। সেই কারণেই ম্যাচটি তাঁর প্রতিপক্ষের পক্ষে যায়।’

তবে কুন্ডরের মতে, শুধু নিয়মের বিচারে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হলেও লড়াইয়ের টেকনিক্যাল দিক এবং স্কোরিং বিবেচনা করলে সুচিকাই জয়ী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের টেকনিক্যাল দিক এবং স্কোরিং দেখলে সুচিকাই জিতেছে।’

ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা অবশ্য লুকাননি সুচিকা। নিজের সেরাটা দিয়েও পদকের রং বদলাতে না পারায় আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। সুচিকা বলেন, ‘পদকের রং বদলাতে আমি নিজের সবটুকু দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু পরিস্থিতির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। হয়তো আমারও কোথাও সামান্য ঘাটতি ছিল। তবে আমার মনে হয়েছে সিদ্ধান্তটি আমার পক্ষে যায়নি। ওই রায়ের সঙ্গে আমি একেবারেই একমত নই।’


তবে বিতর্কিত সেমিফাইনাল পেরিয়েও সুচিকার ব্রোঞ্জ জয় ভারতের মিক্সড মার্শাল আর্টসের ইতিহাসে বড় সাফল্য। এশিয়ান গেমসের মতো মঞ্চে দেশের প্রথম এমএমএ পদক এনে দিয়ে নিজের নামও ইতিহাসের পাতায় তুলে ফেলেছেন তিনি।

Related posts

Leave a Comment