অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শুক্রবার ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট শতরান করলেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১৮৮ বলে শতরান পূর্ণ করেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বলে ১০১ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার এবং একটি ছক্কা।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিনে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে তানজিদের শতরান বাংলাদেশকে ম্যাচে এগিয়ে দেয়। তাঁর ইনিংসের সুবাদে দীর্ঘ চার বছর পর দেশের বাইরে টেস্টে শতরানের মুখ দেখল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে মাহমুদুল হাসান জয় ১৩৭ রান করার পর আর কোনও বাংলাদেশি ব্যাটার বিদেশের মাটিতে টেস্ট শতরান করতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোনও ব্যাটারের এটি মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট শতরান। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লায় শাহরিয়ার নাফিস ১৩৮ রান করেছিলেন।
তানজিদের শতরানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বোলিংয়েও প্রথম দিন ছিল দাপটের। হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত বোলিং করে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে কোনও বাংলাদেশি বোলারের এটিই সেরা বোলিং। এর আগে এই রেকর্ড ছিল মহম্মদ রফিকের— ২০০৬ সালে ফতুল্লায় ৬২ রানে পাঁচ উইকেট।

হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্টে ২০১৭ সালের মিরপুর টেস্টে ২১৭ রানের পর এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভ স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ১০৯ বলে ৭১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। তবে বাংলাদেশ নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের বড় রান করতে দেয়নি।
আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫৫ রানে দুই উইকেট নেওয়ার পথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ২০৪টি ম্যাচে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তাসকিন। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ বোলার তিনি।

তাসকিনের আগে এই তালিকায় রয়েছেন শাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মোর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তাইজুল ইসলাম।
অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টেই বাংলাদেশ পেয়েছে একাধিক বড় সাফল্য— হাসান মাহমুদের রেকর্ড বোলিং, তানজিদের ঐতিহাসিক শতরান এবং তাসকিনের ৩০০ আন্তর্জাতিক উইকেট। ফলে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ আপাতত শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
