আলিপুরদুয়ার — উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির মাঝেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ভান্ডানি সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে গেল একটি পণ্যবাহী ট্রাক। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ট্রাকের চালক এবং খালাসির। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর রবিবার তাঁদের দেহ উদ্ধার করে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে আলিপুরদুয়ার থেকে হাসিমারার দিকে যাচ্ছিল পণ্যবোঝাই ট্রাকটি। মেন্দাবাড়ি সংলগ্ন ভান্ডানি সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে যায় সেটি। প্রবল বৃষ্টি এবং কম দৃশ্যমানতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির ফলে এলাকায় দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। রাতের অন্ধকার এবং বৃষ্টির কারণে সেতুর প্রান্ত স্পষ্টভাবে দেখতে না পাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে অনুমান।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। তবে ভান্ডানি নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
কিন্তু রাতভর বৃষ্টি চলতে থাকায় নদীর স্রোত এবং জলস্তর আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে উদ্ধারকারীদের কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসতেই ফের অভিযান শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর ট্রাকের ভিতর থেকে চালক ও খালাসির দেহ উদ্ধার করা হয়।
উত্তরবঙ্গে গত কয়েক দিন ধরেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। প্রবল বর্ষণের জেরে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুধিয়া সেতুর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শিলিগুড়ি-দার্জিলিং ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিকল্প রোহিণী সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুধিয়া সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তিনটি জেলায় এখনও লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে এবং সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভান্ডানি সেতুর এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, বর্ষাকালে পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা কতটা জরুরি।
