26.7 C
Kolkata
August 5, 2026
দেশ

ঝাড়খন্ডে পুলিশের জালে মাওবাদী বঙ্গ ব্রিগেডের তিন নেতা-নেত্রী

চাইবাসা: সারাণ্ডার জঙ্গল ছেড়ে নতুন এলাকায় সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হল না। ঝাড়খন্ড পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হলেন মাওবাদী বঙ্গ ব্রিগেডের তিন নেতা-নেত্রী। সরাইকেলা-খরসওয়া জেলার কান্ডরা ও চান্ডিল থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে তাঁদের ধরা হয়েছে। ধৃতরা হলেন মদন মাহাতো ওরফে শংকর, সাগর সিং ওরফে বীরেন এবং বীরেনের স্ত্রী মীরা পাহাড়িয়া ওরফে মিনা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাংলা-সহ সাত রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মাওবাদী দমনে আরও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। এরপরই ঝাড়খন্ড পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করে।

তদন্তকারীদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে কান্ডরা থানা এলাকার উদয়পুর গ্রামে একটি বাড়িতে বীরেনের উপস্থিতির খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। বাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৪৭, একটি ৯ এমএম পিস্তল, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ এবং একটি বেতার যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বীরেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চান্ডিলের কাঁদেরবেড়া গ্রামে মদন মাহাতো ও মীরা পাহাড়িয়ার অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে দু’জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মদন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর কর্মাশোল গ্রামের বাসিন্দা এবং মাওবাদী আঞ্চলিক কমিটির নেতা। বীরেন ছিলেন উপাঞ্চলীয় কমান্ডার এবং মীরা উপাঞ্চলীয় কমিটির সদস্য। মদনের মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। বীরেন ও মীরার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা ছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের নেতৃত্বে বঙ্গ ব্রিগেড নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। আকাশ ও শচিন-সহ কয়েক জন এখনও পূর্ব দলমা এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Related posts

Leave a Comment