দিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার দ্রুত শুনানিতে সম্মতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হবে। প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিংহ দ্রুত শুনানির আর্জি জানালে আদালত বিষয়টি গ্রহণ করে।
মামলাকারীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) একটি তিন সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবী বিকাশ সিংহ আদালতে বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বসম্মতি অথবা মতপার্থক্য হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান কার্যকর থাকা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ, চাকরির শর্ত এবং কার্যকালের মেয়াদ সংক্রান্ত আইনের ১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম যতটা সম্ভব সর্বসম্মতিক্রমে পরিচালিত হবে। মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, আইনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সব বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
এই আইনি কাঠামোর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন, নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কয়েকটি ক্ষেত্রে দুই নির্বাচন কমিশনার অভিযোগ করেছিলেন যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তাঁদের অজ্ঞাতসারে নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের তিন সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে পৃথক একটি মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মামলায় কমিশনের নথি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্তগুলি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়েছে।
ফলে আগামী সপ্তাহের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতার সীমা এবং ২০২৩ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারার প্রয়োগ নিয়ে কী অবস্থান নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আপাতত আদালত কেবল মামলাটি শুনতে সম্মতি দিয়েছে; অভিযোগগুলির সত্যতা বা মামলার চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে এখনও কোনও বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
