মঙ্গলবার হঠাৎই প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পরিদর্শনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বেলা সওয়া দুটো নাগাদ প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্সি জেলে প্রবেশ করেন তিনি। প্রথমেই ঐতিহাসিক ঋষি অরবিন্দের সেলে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ঋষি অরবিন্দের আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান এবং ঐতিহাসিক সেলটি ঘুরে দেখেন।
এরপর সংশোধনাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইরে থেকে বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু। তাঁদের দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধা কেমন রয়েছে এবং কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। জেলের আধুনিক কর্মশালাগুলিও পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা জামাকাপড়-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করেন।
প্রেসিডেন্সি জেল চত্বরে থাকা মন্দিরেও যান শুভেন্দু এবং পুজো দেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলের ভিতর থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন, ওয়াইফাই রাউটার, পেনড্রাইভ ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কয়েক দিন আগেই প্রেসিডেন্সি জেলের ১৪ নম্বর সেলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আফতাব আনসারির সেলে আচমকা তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানে তাঁর সেল থেকে একাধিক দামি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট রাউটার, ওটিজি কেবল এবং ৩১ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার হয়। উচ্চনিরাপত্তার সেলে কীভাবে এই ধরনের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও নগদ টাকা পৌঁছল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই জেলের ভিতরে অপরাধী ও কারা বিভাগের একাংশের মধ্যে গোপন আঁতাত এবং অবৈধ কার্যকলাপ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলের ভিতরে চলা অবৈধ সিন্ডিকেট বন্ধ করার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্সি জেলে মুখ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
