37.2 C
Kolkata
June 7, 2026
রাজ্য

দুর্নীতির গন্ধ সর্বত্র, ব্রিগেড প্যারেড ময়দানকেই জেল বানাতে হবে: শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা, ৭ জুন, ২০২৬ — নির্বাচনী সঙ্কল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি একে একে পূরণে তাঁর সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু প্রশাসনের যে ক্ষেত্রেই হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই দুর্নীতির চিহ্ন সামনে আসছে। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার খতিয়ান খতিয়ে দেখতে গিয়ে একের পর এক অনিয়মের তথ্য সামনে আসছে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকেই পচা গন্ধ বেরোচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে ব্রিগেড প্যারেড ময়দানকেই জেল বানাতে হবে।’

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু দাবি করেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে তথ্য যাচাইয়ের সময় একাধিক অসঙ্গতি সামনে পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২৭ লক্ষ এমন নাম পাওয়া গিয়েছে যাঁদের ভোটার তালিকায় অস্তিত্ব নেই। পাশাপাশি প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষও এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘সরকারি অর্থ মানে সাধারণ মানুষের করের টাকা। সেই টাকা অপচয় বা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় হতে দেওয়া যায় না।’ তিনি জানান, বিজেপি সরকারের চালু করা অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে প্রথম দিকে সমালোচনা হলেও এখন মানুষ তার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘কেউ সময় নিয়ে নবান্নে আসুন, চা খাওয়াব। তারপর দেখাব কোথায় কোথায় কী হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতির চিহ্ন মিলছে।’

তবে শুধু বিরোধীদের সমালোচনা নয়, দলের কর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর কোনও নেতাকর্মীর মধ্যে অহংকার তৈরি হওয়া চলবে না। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শুভেন্দু স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমি নয়, আমরা’— এই মন্ত্র নিয়েই বিজেপি বাংলার মানুষের কাছে গিয়েছিল। সেই কারণেই এখন দলের প্রতিটি কর্মীকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সরকারি পরিষেবা ঠিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ের উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিজেপির নির্বাচনী সঙ্কল্পপত্রে থাকা একাধিক প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বিজেপির ৩১৫ জন কর্মীর স্মৃতিতে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই পরিবারগুলির আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে এবং মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।

Related posts

Leave a Comment