কলকাতা, ৭ জুন, ২০২৬ — কলকাতা পুরসভার আরও এক কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। জোড়াসাঁকোর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে রবিবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর থেকেই জোড়াসাঁকোয় কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। অভিযোগ, বার বার ডাকাডাকি এবং ঘণ্টা বাজানো সত্ত্বেও বাড়ির দরজা খোলা হয়নি। প্রায় ছ’ঘণ্টা অপেক্ষার পর তালা খোলার ব্যবস্থা করে পুলিশ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।
এর পর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে বাড়ি থেকে বের করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিন বছর আগে এলাকার এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের নাম উঠে এসেছিল। বর্তমানে ওই নাবালিকা কলেজের ছাত্রী। অভিযোগ, শনিবার তাঁকে ফের হেনস্থা করা হয় এবং পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
এর পরই তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতেই কাউন্সিলরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, কাউন্সিলর-সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বেআইনি কার্যকলাপ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
রবিবার সকালে পুলিশি অভিযানের সময় কাউন্সিলরের বাড়ির বাইরে তাঁর অনুগামীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একই সময়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদেরও সেখানে জমায়েত হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক জন বিক্ষোভকারী ডিম হাতে নিয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন। তবে পুলিশ দ্রুত তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যদিও মহম্মদ জসিমউদ্দিন বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
