July 12, 2026
রাজ্য

জমি ক্রয় নীতিতে বড় বদলের ঘোষণা, ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগে চালু হবে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা

ডানকুনি — রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের গতি বাড়াতে জমি ক্রয় নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার হুগলির ডানকুনিতে একটি হোসিয়ারি সংস্থার কারখানা সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এবার থেকে সরকার সরাসরি জমি কিনে তা শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেবে। পাশাপাশি, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত অনুমোদনের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন নীতির ভিত্তিতে জমি ক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই নীতির আওতায় সরকার সরাসরি জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা শিল্প, রেল, জাতীয় সড়ক, বিমানবন্দর বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার হাতে হস্তান্তর করবে।

তিনি জানান, এই নীতিতে ইতিমধ্যেই সীমান্ত রক্ষাবাহিনীর (বিএসএফ)-এর জন্য জমি কেনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বেসরকারি শিল্পপতিরাও যাতে জমি নিয়ে কোনও সমস্যার মুখে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই সরকার মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই জমি কিনে তাঁদের হাতে তুলে দেবে।

শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘বেসরকারি শিল্পপতিরা এ রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চাইলে জমি কোনও সমস্যা হবে না। সরকার সরাসরি জমি কিনে তাঁদের হাতে তুলে দেবে। আমরা চাই না, আর একটি সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক।’

তিনি জানান, ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় জমি কিনলে বাজারদরের চার গুণ এবং শহরাঞ্চলে দ্বিগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই নীতিই অনুসরণ করবে রাজ্য সরকার।

এছাড়া ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে নতুন সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এত দিন বিনিয়োগকারীদের পঞ্চায়েত, পুরসভা, জেলা পরিষদ-সহ একাধিক দফতর থেকে অনুমতি নিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রয়োজন থাকবে না।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগকারীদের আর বিভিন্ন দফতরে ঘুরতে হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থায় আবেদন করলেই সরকার প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং জমি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবে।’

অনুষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়েও জোর দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, শুধু দেশের নয়, বিদেশি সংস্থাগুলিও যাতে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তাঁর দাবি, শিল্পবান্ধব নীতি, উন্নত আইনশৃঙ্খলা এবং দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবার মাধ্যমে রাজ্যকে নতুন বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যের ওপর প্রায় আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। তাঁর মতে, এই আর্থিক চাপ কমাতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি চাকরির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কৃষকদের আয় বাড়বে এবং রাজ্যের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কম সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Related posts

Leave a Comment