বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নবনির্মিত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একদিকে যেমন কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তেমনই পুলিশকে সতর্ক করে জানালেন, কোনও নিরীহ মানুষ যেন তদন্তের নামে হয়রানির শিকার না হন। শনিবার সূর্যপুর আউটপোস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষকে ভুল করে অভিযুক্ত করা যাবে না|
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারের দাবি এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মাত্র চার দিনের মধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। এজন্য তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান|
তিনি জানান, নতুন সূর্যপুর আউটপোস্টে মোট চারজন পুলিশ অফিসার থাকবেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই)। এছাড়া থাকবেন আটজন কনস্টেবল, যার মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দু’জন মহিলা। পাশাপাশি আটজন সিভিক ভলান্টিয়ারও মোতায়েন করা হবে। ফাঁড়িতে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম এবং মহিলাদের অভিযোগ গ্রহণ ও সহায়তার জন্য পৃথক মহিলা হেল্প ডেস্কও থাকবে।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে সূর্যপুর ও সংলগ্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ক্যামেরাগুলির সমস্ত নজরদারি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালিত হবে।
পুলিশি তদন্তের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা রেললাইনে লোহার বিম ফেলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত করেছেন বা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই কারণে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনও নিরীহ ব্যক্তি যাতে ভুল করে পুলিশের জালে না জড়ান, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
এই বিষয়ে আইজি কঙ্কর বাড়ুইকে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি ভিড়ের মধ্যে ভুলবশত কোনও নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দোষ কাউকে যেন কোনওভাবেই এই মামলায় ফাঁসানো না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি।
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নতুন পুলিশ ফাঁড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
