32 C
Kolkata
October 1, 2026
রাজ্য

মমতা তৃণমূলকে চার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে অনুমতি দিল না সুপ্রিম কোর্ট

জমা রয়েছে ৮০৪ কোটি টাকা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ (Justice M M Sundresh) এবং বিচারপতি পি বি ভারালের (Justice P B Varale) বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জানায়, কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করা হবে না।

এই চারটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে (Public Sector Bank)। অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে তৃণমূলের আইনজীবী আদালতে জানান। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার শাখা (West Bengal Police Cyber Cell) একটি সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত এফআইআরের (Cybercrime FIR) ভিত্তিতে গত জুলাইয়ে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

মমতা শিবিরের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কোনও বেআইনি লেনদেনের প্রমাণ নেই। দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম, কর্মীদের বেতন, দপ্তরের খরচ, সভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য টাকা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে তারা প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করে। বিশেষ আধিকারিকের (Special Officer) নজরদারিতে টাকা ব্যবহারের ব্যবস্থার কথাও আদালতের কাছে বলা হয়েছিল।

তবে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Justice Saugata Bhattacharyya) বেঞ্চ ২৭ আগস্ট ওই চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। আদালতের বক্তব্য ছিল, এর আগে দলের তিনটি অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য বিশেষ আধিকারিকের (Special Officer) মাধ্যমে সীমিত ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিলে আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশের সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হতে পারে।

এর পরেই তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে যায়। শীর্ষ আদালতে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি রাজনৈতিক দলের কাজ চালানোর জন্য শুধু কর্মীদের বেতন ও দপ্তরের ভাড়া মেটানো যথেষ্ট নয়। সভা, প্রচার এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজের জন্যও অর্থের প্রয়োজন। সামনে উপনির্বাচন থাকায় দলের আর্থিক লেনদেন স্বাভাবিক করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কাছেও বিরোধের বিষয়টি রয়েছে। কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের কারণে দলের প্রতীক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে এই অর্থের উপর শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের অধিকার থাকবে, সেই বৃহত্তর বিষয়টিরও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য হাই কোর্টকে মামলাটি দ্রুত শুনে নিষ্পত্তির দিকে এগোনোর অনুরোধ করেছে। অর্থাৎ চারটি অ্যাকাউন্টের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নটি আপাতত বহাল থাকলেও মূল মামলার শুনানি এখনও শেষ হয়নি।

এর আগে তৃণমূলের আরও তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও মামলা হয়েছে। ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছিল। সেই অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে কলকাতা হাই কোর্ট বিশেষ আধিকারিকের নজরদারিতে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর অনুমতি দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টও সেই ব্যবস্থা বহাল রাখে।

চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তেমন কোনও অতিরিক্ত সুবিধা না মেলায় মমতা শিবিরের কাছে আপাতত ওই প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা ব্যবহারের সুযোগ থাকল না। এদিকে অ্যাকাউন্টগুলি কেন ফ্রিজ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই বিষয়গুলি নিয়ে মূল আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

Related posts

Leave a Comment