32 C
Kolkata
October 1, 2026
রাজ্য

সুন্দরবন রক্ষায় ৫৪৫০ কোটির দুই আন্তর্জাতিক প্রকল্প

জলস্তর বৃদ্ধি-ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা

সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় এবং নদীবাঁধ ভাঙনের মতো একাধিক ঝুঁকির মুখে থাকা সুন্দরবনকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। বিশ্বব্যাঙ্ক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের সহায়তায় আপার ও লোয়ার সুন্দরবনকে ঘিরে দু’টি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এডিবি-সমর্থিত আপার ডেল্টা প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ১,৩৫৩ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় লোয়ার সুন্দরবন প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ৪,১০০ কোটি টাকা।

আপার সুন্দরবন প্রকল্পে (Upper Sundarban Delta Project) মূলত নদী ও জলপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বদ্বীপ অঞ্চলের স্বাভাবিক জলপ্রবাহে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা সামাল দেওয়ার পাশাপাশি বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকার পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এডিবির প্রকল্প নথিতেও সুন্দরবনের উচ্চ বদ্বীপে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার কথা বলা হয়েছে।

লোয়ার সুন্দরবন প্রকল্প (SHORE Project) আরও বিস্তৃত উপকূলীয় সুরক্ষার পরিকল্পনা। সমুদ্র ও মোহনার কাছাকাছি ঝুঁকিপূর্ণ দ্বীপগুলিতে বাঁধের সুরক্ষা বাড়ানো, প্রকৃতিনির্ভর পদ্ধতি কাজে লাগানো এবং ম্যানগ্রোভের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের সমুদ্রসম্পদকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও টেকসই করার লক্ষ্যও রাখা হয়েছে। রাজ্যের ২০২৬ সালের বাজেটেও এই প্রকল্পের জন্য ৪,১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক স্থানীয় মানুষের জীবিকা। মৎস্যচাষ (Fisheries), মাছ-নির্ভর অর্থনীতি এবং অন্যান্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা হবে। সুন্দরবন শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, এই এলাকার বিপুল মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে নদী, খাল, মাছ এবং কৃষি প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত।

পরিবেশগত সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ম্যানগ্রোভের গুরুত্ব রয়েছে। নতুন করে ম্যানগ্রোভ রোপণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিজমি ও বসতিতে নোনা জল ঢুকে পড়া ঠেকাতে বাঁধ ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। বিশ্বব্যাঙ্কের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সুন্দরবনকে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে সুন্দরবনের নদীবাঁধ ও পরিবেশ রক্ষায় বিদেশি প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ হয়েছিল।

নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির প্রযুক্তিবিদদের আগ্রহের কথাও সামনে এসেছিল। এবার বিশ্বব্যাঙ্ক ও এডিবির অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মিললে সুন্দরবনের জলবায়ু-সহনশীল পরিকাঠামো তৈরির কাজ আরও বড় পরিসরে এগোতে পারে। তবে দুই প্রকল্পের ক্ষেত্রেই প্রস্তাবিত অর্থায়ন, কেন্দ্রীয় অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেটেও প্রকল্প দু’টির জন্য কেন্দ্রীয় অনুমোদনের অপেক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment