কলকাতা, ৩ জুন: তীব্র আর্দ্রতা ও ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। সকাল থেকেই চড়া রোদ এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যে অস্বস্তি বাড়ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু’দিন এই পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হবে না। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকে কলকাতাসহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলাতেই উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দিনের তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি চরমে পৌঁছতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ শহরাঞ্চলে গরমের অনুভূতি প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি থাকবে।
তবে বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হতে পারে। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যার পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। শুক্রবার এই পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।
শুক্রবার থেকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম থেকে আংশিক স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে আগামী সাত দিন আবহাওয়ার বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় বুধবারও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলে বৃষ্টির এই ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় এবং স্থানীয় আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণবঙ্গে ফের ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে সপ্তাহের শেষভাগে গরমের দাপট কিছুটা কমলেও বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
