সিন্ধু জল চুক্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে পাকিস্তানের উপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। ভারতের অনুপস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় নিজেদের পাশাপাশি ভারতের অংশের আইনি খরচও পাকিস্তানকে বহন করতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই খাতে প্রায় ছ’লক্ষ মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে খবর। মামলার শুনানি দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ চলছে। কিষাণগঙ্গা এবং রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশন-এ মামলা দায়ের করে। তবে ভারত শুরু থেকেই এই সালিশি প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং শুনানিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৫ সালের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। কেন্দ্রের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ চলতে থাকলে স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। সেই অবস্থান বজায় রেখেই ভারত জানিয়েছে, এই বিষয়ে রায় দেওয়ার এক্তিয়ার আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের নেই। ফলে আদালতের যে কোনও সিদ্ধান্ত মানার বাধ্যবাধকতা ভারত স্বীকার করছে না।
অন্য দিকে, ভারত অনুপস্থিত থাকায় মামলার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পাকিস্তানকেই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং সিন্ধু জল চুক্তি সংক্রান্ত দুই দেশের অবস্থানের উপর।
