June 3, 2026
কলকাতা

নবান্নে শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়নার উপস্থিতি, তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

কলকাতা, বুধবার: রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা। বুধবার নবান্নে অনুষ্ঠিত কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব-সহ তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ।

তাঁদের এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, মাত্র একদিন আগেও এঁদের অনেককেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছিল। অথচ বুধবার তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা ও বিভাজন নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।

এরই মধ্যে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার তাঁরা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেন। ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভানেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উপদলনেতা হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এর আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে বিদ্রোহী শিবির সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। ফলে বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার সমাধান এখন অনেকটাই স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। সূত্রের খবর, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বুধবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পর এবার ফিরহাদ, কুণাল ও নয়নার মতো নেতাদের নবান্নে উপস্থিতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। এর আগে কল্যাণীতে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকেও কাকলি অংশ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন।

এদিকে, ভোটে ভরাডুবির পর মঙ্গলবার ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ, নয়না ও অশোক দেব। কুণাল ঘোষও উপস্থিত হয়েছিলেন, যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথে ফিরে যান। কিন্তু মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাঁদের নবান্নমুখী হওয়া রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে। বুধবার দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দলের অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতৃত্ব, পরিষদীয় দল এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই স্পষ্ট করবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী শিবিরে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের প্রভাব বেশি থাকে।

Related posts

Leave a Comment