স্মৃতির ব্যাটে রেকর্ডের বন্যা
দুবাই: স্মৃতি মন্ধানার রেকর্ড-ভাঙা দুরন্ত শতরান এবং ভারতীয় বোলারদের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের সৌজন্যে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এ হংকংকে ১৩৭ রানে হারাল ভারত। বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্রুপ এ-র ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১৯৩ রান তোলার পর হংকংকে মাত্র ৫৬ রানে গুটিয়ে দেয় ভারত। এই জয়ের সঙ্গেই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ভারতীয় দল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন স্মৃতি। ৬৪ বলে ১২৪ রানের দুরন্ত ইনিংসে তিনি মেরেছেন ১৪টি চার এবং সাতটি ছক্কা। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে হংকংয়ের বোলাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এই ইনিংসের পথেই একাধিক বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নেন ভারতের সহ-অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মহিলাদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পথে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মিতালি রাজকে টপকে যান তিনি। মিতালির ১০,৮৬৮ আন্তর্জাতিক রানের নজির পেরিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন স্মৃতি।
শুধু রান সংগ্রহের রেকর্ড নয়, শতরানের সংখ্যাতেও নতুন নজির গড়েছেন তিনি। হংকংয়ের বিরুদ্ধে শতরানটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্মৃতির ১৮তম শতরান। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মেগ ল্যানিংয়ের ১৭টি আন্তর্জাতিক শতরানের রেকর্ডকে পিছনে ফেলে মহিলাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক শতরানের মালিক হয়েছেন ভারতীয় তারকা।
এশিয়া কাপের ইতিহাসেও স্মৃতির ১২৪ রান নতুন রেকর্ড। মহিলাদের টি-২০ এশিয়া কাপে এতদিন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তুর। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১১৯ রান করেছিলেন তিনি। এবার ১২৪ রান করে সেই রেকর্ড নিজের দখলে নিলেন স্মৃতি।
তাঁকে শুরুতে দারুণ সঙ্গ দেন শেফালি ভার্মা। উদ্বোধনী জুটিতে দু’জনে ৭৪ রান যোগ করেন। শেফালি ১৭ বলে ২৮ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার এবং দু’টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত রুচিতা বেঙ্কটেশ শেফালিকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন।
এরপর প্রতীকা রাওয়াল ১০ রান করেন। রিচা ঘোষ এবং হরমনপ্রীত কৌর করেন যথাক্রমে ১১ ও ১০ রান। নির্ধারিত ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ভারত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে হংকং। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকায় বড় রান তোলার কোনও সুযোগই তৈরি করতে পারেনি তারা। ভারতের স্পিনাররা ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে যাওয়ায় হংকংয়ের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত ভেঙে পড়ে।
বল হাতে ভারতের সবচেয়ে সফল ছিলেন দীপ্তি শর্মা। তিন ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। প্রেমা রাওয়াত এবং নন্দনী শর্মা দু’টি করে উইকেট তুলে নেন। ভারতীয় স্পিন আক্রমণের সামনে হংকংয়ের ব্যাটাররা কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি।
হংকংয়ের হয়ে অধিনায়ক নাতাশা মাইলস সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন। ইয়াসমিন দাসওয়ানি করেন ১১ রান। কিন্তু দু’জনের কেউই দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থেকে জুটি গড়তে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৬.২ ওভারে মাত্র ৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় হংকং।
১৩৭ রানের এই জয় টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মহিলাদের ক্ষেত্রে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়ের নজির। গ্রুপ পর্বে ভারতীয় দলের দাপট যে কতটা, এই বিশাল ব্যবধানের জয়ই তার প্রমাণ।
হংকংয়ের হয়ে বল হাতে মারিনা ল্যাম্পলফ দু’টি উইকেট নেন। রুচিতা বেঙ্কটেশ এবং জয়লিন কৌর একটি করে উইকেট পেয়েছেন। তবে স্মৃতির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে ম্যাচে ফিরে আসার কোনও সুযোগই পায়নি হংকং।
সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর এবার ভারতের সামনে পাকিস্তান। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারতীয় দল। পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলেছে এবং সেই ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়েছে। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামতে চাইবে পাকিস্তানও।
তবে হংকং ম্যাচে স্মৃতি মন্ধানার ব্যাটে যে ঝড় উঠেছে, তার পর ভারতের আত্মবিশ্বাস যে তুঙ্গে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে ভারতীয় সহ-অধিনায়ক দলকে সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছেন। এখন লক্ষ্য এশিয়া কাপের শিরোপা।
