‘Sing Geetham’ এমন এক ছবি, যা বর্তমান সময়ের প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রেম, আশা, প্রকৃতি ও মানবিকতার মিশেলে তৈরি এই মিউজিক্যাল সিনেমা দর্শকদের নিয়ে যায় এক কল্পলোকের যাত্রায়, যেখানে প্রতিটি অনুভূতি প্রকাশ পায় গানের মাধ্যমে।
ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে কাল্পনিক গ্রাম ‘কুবেরপুরম’-কে ঘিরে। সোনার লোভে গ্রামবাসীরা গ্রামের শেষ গাছটিও কেটে ফেলে। এর পরেই গ্রামের দেবতা কুবের তাঁদের অভিশাপ দেন—এখন থেকে গ্রামের সবাইকে প্রতিটি কথা ও অনুভূতি গানের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এই অভিনব ধারণাই ছবির মূল আকর্ষণ।
সঙ্গীত পরিচালক দেবী শ্রী প্রসাদ এই সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন। দৈনন্দিন কথোপকথনকে সুরে বেঁধে তিনি ছবিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছেন। যদিও কিছু জায়গায় এই মিউজিক্যাল ফরম্যাট কিছুটা দীর্ঘ মনে হতে পারে, তবুও ছবির প্রাণবন্ততা ও ইতিবাচক আবহ দর্শকদের ধরে রাখে।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আয়ান ও আহিল্যার ভূমিকায় অভিনয় করা নবাগত শিল্পীরা তাঁদের সতেজ উপস্থিতি ও আন্তরিক অভিনয়ের মাধ্যমে নজর কেড়েছেন। পরিবেশ রক্ষার বার্তা এবং প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধকে সামনে এনেছে তাঁদের চরিত্র। ছবির অন্যতম চমক হল নারী খলনায়ক চরিত্রে শালিনী কোন্ডেপুডির অভিনয়।
‘Sing Geetham’ শুধু একটি মিউজিক্যাল ছবি নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, পরিবেশ ধ্বংসের বিপদ এবং জীবনের সরল আনন্দকে উদযাপন করার গল্প। বন্দুক, হিংসা ও অন্ধকারে ভরা বর্তমান সিনেমার ভিড়ে এই ছবি এক টুকরো নির্মল আনন্দের বাতাস এনে দেয়।
প্রযোজক নাগ অশ্বিনের এই প্যাশন প্রজেক্ট দর্শকদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো আনন্দ, গান আর প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানেই লুকিয়ে আছে। ‘Sing Geetham’ সেই হারিয়ে যেতে বসা নির্মল আনন্দের অনুভূতিকেই আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে।
