32 C
Kolkata
June 1, 2026
রাজ্য

দলের পতাকা ব্যবহার করে দখলদারি বরদাস্ত নয়, সাংসদ-বিধায়ক জড়ালেও ব্যবস্থা: শমীক ভট্টাচার্য

হাবড়া — বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে দখলদারি, বেআইনি কারবার বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এমনকি কোনও সাংসদ বা বিধায়কের নাম জড়ালেও তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

রবিবার হাবড়ার প্রফুল্লনগরে এক দলীয় নেত্রীর পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। বিভাজনের রাজনীতি বা দখলদারির রাজনীতি নয়, পশ্চিমবঙ্গকে হিংসামুক্ত ও উন্নয়নমুখী রাজ্যে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই নীতিতেই বিজেপি চলবে।’’

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘চার ঘণ্টার বিজেপি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষ হাবড়া, অশোকনগর, পুরুলিয়া থেকে ডুয়ার্স পর্যন্ত নানা এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের অনেকেই আগে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে বালিখাদান, পাথরখাদান, সীমান্ত এলাকা কিংবা গরু পাচার-সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।’’

তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করার পর এই সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

শমীকের বক্তব্য, ‘‘দলের কোনও বিধায়ক, কোনও সাংসদ বা প্রভাবশালী নেতা যদি এই ধরনের বেআইনি কাজকে মদত দেন, তাহলে সেটি শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

রাজ্যে অতীতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশের অপব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, ‘‘আগে রাজনৈতিক নেতাদের কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হত। অনেক সময় মহিলা পুলিশকর্মীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হত না। এ নিয়ে পুলিশকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ ছিল। এখন সেই সংস্কৃতি বন্ধ হবে।’’

সোনারপুরে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন শমীক। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। বরং তা শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যেই বিজেপির তরফে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নে দল যে আপস করবে না, শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment