‘এ ধরনের ঘটনা সমর্থন করি না’
সংবাদ কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুলল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য শুভব্রত অধিকারী জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা এবিভিপি সমর্থন করে না এবং ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও সদস্য যুক্ত নন। তাঁর দাবি, সাধারণ ছাত্রীরা ক্ষোভের বশে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
স্বাধীনতা দিবসের সকালে আশুতোষ কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী এবং কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী উপাসনা চৌধুরী অন্য কয়েক জনের সঙ্গে কলেজে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের প্রবেশ ঘিরে আপত্তি ওঠে। কলেজের পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

পরিস্থিতি সামলাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এরপরই বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।
এবিভিপির দাবি, সংগঠনের কেউ যুক্ত নয়
ঘটনার পর এবিভিপির কেন্দ্রীয় সদস্য শুভব্রত অধিকারী একটি বার্তায় সংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘এবিভিপি এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। সাধারণ ছাত্রীরা কেউ ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে এবিভিপির কেউ যুক্ত নয়।’
অর্থাৎ, আশুতোষ কলেজের ঘটনাকে সংগঠনের কর্মসূচি বা পরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই বলেই দাবি করেছে এবিভিপি। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশের ধরন নিয়েও সংগঠনের তরফে কার্যত আপত্তি জানানো হয়েছে।

তবে শুভব্রত অধিকারী উপাসনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, সংবাদমাধ্যমের নজরে আসার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। উপাসনা চৌধুরী প্রকাশ্যে অনেককে মিথ্যা শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘ডিম থেরাপি’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
আশুতোষ কলেজের ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্যে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের বক্তব্য, বিভিন্ন দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূলের একাধিক নেতা তদন্তের আওতায় আসার পর তাঁদের ঘিরে জনরোষের ছবি সামনে এসেছে।
তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভের সময় ডিম ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে একাধিক বার। কোথাও রাস্তায় আটকে ডিম ছোড়া হয়েছে, কোথাও আবার বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ‘ডিম থেরাপি’ শব্দবন্ধটিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে ডিম ছোড়া বা কোনও ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করার মতো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এবিভিপির সাম্প্রতিক বার্তায় সংগঠনটি এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব স্পষ্ট করল।
আশুতোষ কলেজে ঠিক কী হয়েছিল?
১৫ আগস্ট সকালে উপাসনা চৌধুরী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জন আশুতোষ কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কলেজে প্রবেশের সময় তাঁদের পরিচয়পত্র নিয়ে আপত্তি ওঠে। কলেজের ভিতরে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন। তাঁদের সামনে ভিড় না করার জন্যও বলা হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই উত্তেজনার মধ্যেই উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরে রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এক পক্ষ এটিকে জনরোষের প্রকাশ বলে দাবি করলেও অন্য পক্ষের বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কাউকে প্রকাশ্যে অপমান বা হেনস্থা করা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এবিভিপির অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ
রাজ্যে ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনার মধ্যে এবিভিপির এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, সংগঠনটি সাধারণত ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভাবে অবস্থান নেয়। কিন্তু আশুতোষ কলেজের এই ঘটনায় তারা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, এমন কোনও ঘটনা তাদের সংগঠনের কর্মসূচির অংশ নয়।
শুভব্রত অধিকারীর বক্তব্যে একই সঙ্গে দু’টি বিষয় উঠে এসেছে— প্রথমত, ডিম ছোড়ার মতো ঘটনার সঙ্গে এবিভিপির কোনও যোগ নেই এবং দ্বিতীয়ত, সংগঠন এই ধরনের আচরণকে সমর্থন করে না। ফলে রাজনৈতিক বিক্ষোভের সঙ্গে ব্যক্তিগত হেনস্থাকে এক করে না দেখার বার্তাই দিয়েছে ছাত্র সংগঠনটি।

আশুতোষ কলেজের ঘটনা ঘিরে অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক এখানেই থামছে না। উপাসনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে এবিভিপির তোলা অভিযোগের সত্যতা যেমন তদন্তসাপেক্ষ, তেমনই ডিম ছোড়ার ঘটনায় কারা যুক্ত ছিলেন, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কলেজ চত্বরে সেই সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সামনে এলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।
