October 31, 2026
দেশ বিদেশ

বায়ুসেনার নতুন প্রধান আশুতোষ দীক্ষিত

নয়াদিল্লি— ভারতীয় বায়ুসেনার ২৯তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এয়ার চিফ মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত। শনিবার বিদায়ী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংহের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। এর আগে বায়ুসেনার উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন দীক্ষিত। চার দশকের সামরিক জীবনে অপারেশন সফেদ সাগর, অপারেশন রক্ষক এবং সাম্প্রতিক অপারেশন সিঁদুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফাইটার পাইলট হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন আশুতোষ দীক্ষিত। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫৯ বছর। দক্ষ যুদ্ধবিমান চালক হওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রশিক্ষক এবং পরীক্ষামূলক টেস্ট পাইলট হিসেবেও পরিচিত। মিরাজ-২০০০, মিগ সিরিজের বিভিন্ন যুদ্ধবিমান, জাগুয়ার এবং তেজস-সহ একাধিক বিমানে ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

সামরিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন নতুন বায়ুসেনা প্রধান। পশ্চিম সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ঘাঁটির পাশাপাশি দক্ষিণ সেক্টরের যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ঘাঁটিরও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বায়ুসেনার কেন্দ্রীয় কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ এবং চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অপারেশন সিঁদুরের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি।

বায়ুসেনার আধুনিকীকরণেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। জাগুয়ার ও মিগ-২৭ যুদ্ধবিমানের উন্নত সংস্করণ তৈরির প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন দীক্ষিত। দেশীয় তেজস যুদ্ধবিমানের প্রাথমিক ও চূড়ান্ত কার্যকরী ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এই অভিজ্ঞতার কারণে দেশীয় যুদ্ধবিমান তৈরির কর্মসূচি এবং বায়ুসেনার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।



নতুন প্রধানের সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তেজস এমকে-১এ ও এমকে-২, বহুমুখী যুদ্ধবিমান প্রকল্প, উন্নত মাঝারি যুদ্ধবিমান এবং মাঝারি পরিবহণ বিমান তৈরির কর্মসূচি তার মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি পুরনো যুদ্ধবিমানগুলির জায়গায় আধুনিক বিমান অন্তর্ভুক্ত করা এবং যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রনের সংখ্যা বাড়ানোও বায়ুসেনার অন্যতম লক্ষ্য।

বর্তমানে বায়ুসেনার অনুমোদিত যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা ৪২.৫। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা কমে ৩০-এর নিচে নেমে এসেছে। গত ৩ অক্টোবর বিদায়ী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংহ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধক্ষমতা ধরে রাখতে দেশে বছরে অন্তত ৪০টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশীয় তেজস যুদ্ধবিমানের দ্রুত অন্তর্ভুক্তি এবং বিদেশি বহুমুখী যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানো, আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা শক্তিশালী করাই নতুন প্রধানের সামনে বড় দায়িত্ব। চার দশকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আশুতোষ দীক্ষিত কী ভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করেন, এখন সেদিকেই নজর প্রতিরক্ষা মহলের।

Related posts

Leave a Comment