নয়াদিল্লি | ২০ জুন: ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে তিনি তুলে দেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, বস্ত্র, প্রাচীন চিকিৎসা-সংক্রান্ত গ্রন্থ এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে উপহার দেওয়া হয় অন্ধ্রপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী কলমকারি মহাভারত চিত্রকর্ম। হাতে আঁকা এই শিল্পকর্মে মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনা ও ভগবদ্গীতার দর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর জন্য ছিল তেলঙ্গানার বিখ্যাত পোচমপল্লি সিল্ক স্টোল। ইকাত বয়নশৈলীতে তৈরি এই স্টোল ভারতের সমৃদ্ধ বস্ত্র ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন।
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকে উপহার দেওয়া হয় কাশ্মীরের হাতে বোনা সিল্ক কার্পেট। সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকার্যের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে এই শিল্পের।
স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির জন্য ছিল মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী হিমরু সিল্ক টাই ও পকেট স্কোয়ার এবং রাজস্থানের প্রতাপগড়ের বিখ্যাত থেওয়া মোটিফ কাফলিঙ্কস।
এছাড়া স্লোভাকিয়ার পার্লামেন্ট স্পিকার রিচার্ড রাশির হাতে তুলে দেওয়া হয় আয়ুর্বেদের দুই প্রাচীন গ্রন্থ চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা। ভারতের প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শল্যচিকিৎসার জ্ঞানভাণ্ডারের প্রতীক হিসেবে এই গ্রন্থদুটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
রাশির জন্য আরও একটি বিশেষ উপহার ছিল বিহার ও ঝাড়খণ্ডের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ঠেকুয়া। ছটপুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই খাবার ভারতের লোকসংস্কৃতির পরিচায়ক।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারগুলি ভারতের আঞ্চলিক শিল্প, প্রাচীন জ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
