August 2, 2026
দেশ

মাদকমুক্ত ভারত গড়তে যুবসমাজকে শপথের ডাক, ‘দেশের তরুণরা সচেতন ও দায়িত্বশীল’: প্রধানমন্ত্রী মোদী

দিল্লি— মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে দেশের যুবসমাজকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ‘নেশা মুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর সূচনা করে তিনি বলেন, দেশের নতুন প্রজন্মের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করছে যে ভারতের তরুণরা সচেতন, সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সংবেদনশীল এবং নিজেদের কর্তব্য পালনে আন্তরিক।

ধানমন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তি বা একটি পরিবারের বিষয় নয়, এটি গোটা সমাজ এবং দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাঁর কথায়, বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দেশের যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে এবং মাদকের নেশা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে।



তিনি বলেন, ‘আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্প নিতে একত্রিত হয়েছি। এই উদ্যোগ একজন মানুষের জন্য, একটি পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য এবং সবচেয়ে বড় কথা দেশের জন্য। যখন ভারত বিকশিত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, তখন দেশের যুবসমাজকে সুস্থ, সচেতন এবং মাদকমুক্ত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের এমন একটি সমাজ গড়তে হবে, যেখানে তরুণরা নেশার অভিশাপ থেকে দূরে থাকবে।’

এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জন-অংশগ্রহণের আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছে। ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্বে এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে এবং মাদকমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বছর কাশী থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের সঙ্গে যেমন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত রয়েছে, তেমনই রয়েছে আধ্যাত্মিক শক্তি, সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রেরণা। তিনি বলেন, ভারতের সংস্কৃতি যুগের পর যুগ নেশার বিরোধিতা করে এসেছে এবং সেই মূল্যবোধই এই অভিযানের অন্যতম ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ১২৫টি আধ্যাত্মিক সংগঠন নিরলসভাবে সমাজসেবার কাজ করছে এবং তারা ‘কাশী ঘোষণা’ গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে গৃহীত এই পাঁচ বছরের রূপরেখার মূল লক্ষ্য হল একটি মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তোলা।

যুবসমাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছেন। ভারতের তরুণরা সচেতন, সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সংবেদনশীল এবং নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত আন্তরিক।’

তিনি দেশের যুবসমাজকে ‘অমৃত প্রজন্ম’ বলে উল্লেখ করে বলেন, আগামী দুই থেকে আড়াই দশকের মধ্যে এই প্রজন্মই দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান শক্তি হবে। তাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং নিজেদের জীবনের স্বার্থে প্রত্যেক তরুণ-তরুণীকে মাদকের নেশা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Related posts

Leave a Comment