32 C
Kolkata
September 9, 2026
দেশ

৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিতে বিশ্বের আস্থা বেড়েছে, গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে দাবি মোদীর

মুম্বাই— বিশ্বজুড়ে সংঘাত, অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি যে শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি তারই প্রমাণ বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের এই অর্থনৈতিক সাফল্য শুধু দেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের কাছেও নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, এপ্রিল থেকে জুন— চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকটি ছিল অত্যন্ত কঠিন সময়। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তার মধ্যেও ভারত ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতির ধারাবাহিক বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক মহলে দেশের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ফলাফল বিশ্বের সামনে নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছে।


ভারতের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার উদাহরণ হিসেবে দেশের ঋণমানের কথাও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর দাবি, সম্প্রতি জাপানের ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ভারতকে ‘এ’ শ্রেণিতে উন্নীত করেছে। তাঁর মতে, প্রায় তিন দশক পর এই ধরনের স্বীকৃতি ভারতের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থারই প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই গত এক দশকে ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। একসময় হাতের মুঠোয় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ভাবনাকে অনেকেই অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ইউপিআই সেই ধারণাকেই বাস্তবে পরিণত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মোদী জানান, ইউপিআই এখন ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে একাধিক দেশেও চালু হয়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারতের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার সংযোগের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থ লেনদেন এখন অনেক বেশি সহজ হয়েছে।

আগামী দিনে আরও বেশি দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের ডিজিটাল লেনদেন পরিকাঠামোর গভীর সংযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ভারতের ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, কোনও একটি লক্ষ্য অর্জন করেই থেমে থাকার নীতি তাঁর নয়। একটি মাইলফলক পার হওয়ার পরই পরবর্তী আরও বড় লক্ষ্যের প্রস্তুতি শুরু হয়। সেই ধারাতেই আর্থিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উপর জোর দেন তিনি।


ভবিষ্যতের আর্থিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টোকেনাইজেশন এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো নতুন প্রযুক্তির বড় ভূমিকা থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, শুধু প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না, সেই প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে হবে।

একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, ভারতে সাইবার নিরাপত্তার মানকে আরও উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষার জন্য নিজস্ব নৈতিক মানদণ্ড তৈরি করা প্রয়োজন।

ফিনটেক ক্ষেত্রের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্পমহল এবং উদ্ভাবনের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে একটি বিশেষ ফিনটেক ভোক্তা সুরক্ষা সূচক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

সব মিলিয়ে, ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাই গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টের মঞ্চ থেকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে ভারতের অর্থনীতির পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বড় ভূমিকার জন্য প্রস্তুত করতে চাইছে কেন্দ্র।

Related posts

Leave a Comment