তেলঙ্গানায় খুব শীঘ্রই বিজেপির ‘পদ্ম’ ফুটবে বলে দাবি করলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। রবিবার হায়দরাবাদে দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তেলঙ্গানায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিতে হবে।
শ্যামশাবাদে রঙ্গা রেড্ডি গ্রামীণ জেলা বিজেপি কার্যালয়ের উদ্বোধন এবং আরও ন’টি জেলা কার্যালয়ের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিন নবীন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পর বিজেপি সাফল্য পেয়েছে। একইভাবে তেলঙ্গানাতেও কর্মীদের দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তেলঙ্গানায় ক্ষমতায় থাকা দলগুলি জনস্বার্থের বদলে ব্যক্তিগত স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান কংগ্রেস সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘অরাজক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীরা এই সরকারকে উৎখাত করতে প্রস্তুত।
নীতিন নবীনের দাবি, ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পিছনে বিজেপির বড় ভূমিকা ছিল, যদিও তার রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে কংগ্রেস। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে আপস করেছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনাই এখন লক্ষ্য।
কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, প্রতিটি মহল্লা, রাস্তা ও শহরে পৌঁছে বিজেপির আদর্শ, নীতি ও কর্মসূচি মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে তেলঙ্গানার মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। তবে প্রকৃত উন্নয়নের জন্য রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ বিজেপি সরকার প্রয়োজন।
নীতিন নবীন আরও বলেন, ১৯৮৪ সালে যখন সারা দেশে বিজেপির মাত্র দু’জন সাংসদ ছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন তৎকালীন তেলঙ্গানা অঞ্চল থেকে। তাই বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ দল বলা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুই দিনের তেলঙ্গানা সফরে রবিবার হায়দরাবাদে পৌঁছন নীতিন নবীন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি, বন্দি সঞ্জয় কুমার, রাজ্য বিজেপি সভাপতি এন. রামচন্দর রাও-সহ দলের একাধিক নেতা। পরে তিনি নামপল্লির এক কর্মসূচিতে বুথ সভাপতিদের ‘বিজয় সংকল্প সম্মেলন’-এও বক্তব্য রাখেন।
