সংবাদ কলকাতা: কড়া যাচাইয়ের পর আগামী ১৭ আগস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ফের উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রকৃত যোগ্য কোনও মহিলা যাতে শুধুমাত্র কিছু নিয়মের কারণে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা যাচাইয়ের কাজ ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। যাঁদের যাচাই ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে এবং যাঁরা নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়ছেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৭ আগস্ট থেকে টাকা পাঠানো শুরু হবে। নতুন করে অনুমোদন পাওয়া উপভোক্তারাও এই পর্যায়ে টাকা পাবে

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে টাকা পাওয়ার জন্য উপভোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।
কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারাই এই প্রকল্পের জন্য বিবেচিত হবেন। কোনও মহিলা নিজে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি আয় করলে তিনি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। একই ভাবে পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে সেই পরিবারও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে না।
সরকারি চাকরি, সরকারি সংস্থা, পুরসভা, পঞ্চায়েত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরি করা ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রকল্পের সুবিধা না দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি পেনশনভোগীরাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন।
তবে পরিবারের কোনও পুরুষ সদস্য অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী হলে সেই পরিবারের মহিলা আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

দিব্যাঙ্গ ও কৃষক পরিবারের জন্য নিয়মে ছাড়
অন্নপূর্ণা যোজনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি হল দিব্যাঙ্গ মহিলাদের ক্ষেত্রে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিব্যাঙ্গ ভাতা পাওয়া যোগ্য মহিলারা সেই ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকাও পেতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনও পরিবার প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির সুবিধা পেলেও পরিবারের যোগ্য মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আগে যে মহিলারা ৩ হাজার টাকার কম বিধবা ভাতা বা অন্য কোনও সরকারি ভাতা পেতেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি এমন মহিলাদের ক্ষেত্রে অন্যান্য ভাতার সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ সমন্বয় করে মোট সুবিধা ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হবে।
বাড়ি ও জমির ক্ষেত্রেও শর্ত শিথিল
গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের জন্য বাড়ির ঘর এবং জমি সংক্রান্ত নিয়মেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। কোনও পরিবারের তিনটির বেশি ঘর থাকলেই আবেদন বাতিল করা হবে না। একই ভাবে ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলেও শুধুমাত্র সেই কারণে কোনও মহিলাকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না।
সরকারের দাবি, এই নিয়ম শিথিল করার ফলে গ্রামাঞ্চলের আরও বহু যোগ্য মহিলা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন।
যাচাইয়ের পরেই অ্যাকাউন্টে টাকা
সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে এবার উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য খতিয়ে দেখেছেন। ভুয়ো নাম, মৃত ব্যক্তির নাম বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যাতে টাকা না যায়, সে জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে প্রকৃত যোগ্যদের চিহ্নিত করতেই যাচাই প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হয়েছে।
কোনও যোগ্য মহিলা তালিকা থেকে বাদ পড়লে বা তাঁর আবেদনে কোনও সমস্যা থাকলে অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ পোর্টাল চালু করার কথাও জানানো হয়েছে। সেখানে অভিযোগ গ্রহণের পর প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
ফলে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে একদিকে যেমন যাচাই হয়ে যাওয়া উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে, তেমনই অন্যদিকে বাদ পড়া যোগ্য মহিলাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে বিষয়টি যাচাই করার সুযোগ থাকবে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়মিত এবং স্বচ্ছভাবে যোগ্য মহিলাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
