সেশেলসকে ‘ছোট দ্বীপরাষ্ট্র’ হিসেবে দেখার ধারণা বদলানোর আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার রাষ্ট্রীয় সফরে সেশেলসের জাতীয় সংসদে বিশেষ ভাষণে তিনি বলেন, প্রায় ১৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকা নিয়ে সেশেলস আসলে একটি বৃহৎ মহাসাগরীয় দেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মানচিত্রে সেশেলসকে অনেকেই ভারত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপের সমষ্টি হিসেবে দেখেন। কিন্তু ভারতের কাছে সেশেলস এমন একটি দেশ, যার দিগন্ত তার উপকূলের বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ‘ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা শুরু হওয়ার বহু আগেই সেশেলস এই ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোদী বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ‘ব্লু বন্ড’-এর মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগে সেশেলস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। প্রকৃতি সংরক্ষণে দেশটির প্রচেষ্টা ভারতের দর্শনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ মহাসাগর গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল সাউথ এবং দ্বীপরাষ্ট্রগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপকূল, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, আবহাওয়ার ধরন এবং স্থানীয় জনজীবনে এর প্রভাব স্পষ্ট। তাঁর মতে, জলবায়ু মোকাবিলার নীতিতে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও সমতার ভিত্তি থাকা প্রয়োজন, যা ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’-এর মূল দর্শন।
ভারতের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলির কথাও তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, গত এক দশকে ভারত নবীকরণযোগ্য শক্তির বিস্তার, ‘মিশন লাইফ’, আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA), দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো জোট (CDRI), গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স (GBA) এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির মাধ্যমে সবুজ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হয়েছে।
এদিন সেশেলসের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে দেশটির সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত ও সেশেলসের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে গভীর যোগাযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নিরাপত্তা, মানব উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন এবং সংসদীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করারও আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সেশেলসের জাতীয় সংসদে এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০তম বিদেশি সংসদে দেওয়া ভাষণ।
