কলকাতা — টানা মেয়াদে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন নজির গড়লেন নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে টানা ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করলেন। এর ফলে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর টানা ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড অতিক্রম করলেন মোদী।
এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা একটি বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানায়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানান বলেও জানা গিয়েছে।
২০১৪ সালের মে মাসে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদী। তারপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরপর জনসমর্থন পেয়ে তিনি দেশের নেতৃত্বে বহাল রয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীনতার পর দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
এই উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়াও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনসেবাই সুশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিনয়, নিষ্ঠা এবং কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাই একজন শাসকের প্রধান দায়িত্ব।
একটি সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, যিনি সর্বদা জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকেন এবং বিনয়ী মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে সাফল্য ও সমৃদ্ধি অর্জন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেন, গত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত স্বাধীনতার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ের সাক্ষী হয়েছে। তাঁর মতে, এই সময়কালে দেশ ঔপনিবেশিক মানসিকতার বহু সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, মনসুখ মাণ্ডবিয়া এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রার্থনা করেছেন।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, এই মাইলফলক দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থা, ভালবাসা এবং সমর্থনের প্রতিফলন। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ৪,৩৯৯ দিনের যাত্রা আত্মনির্ভর, উন্নত, সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী ভারত গঠনের এক সোনালি অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, টানা তিনবারের জনাদেশ এবং দীর্ঘ সময়ের প্রশাসনিক নেতৃত্ব নরেন্দ্র মোদীকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। আগামী দিনে উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও নীতির উপরই নজর থাকবে দেশবাসীর।
