কলকাতা — আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই মতো সোমবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে শুরু হল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’। দলীয় ঘোষণার কিছু ক্ষণের মধ্যেই বিজেপির রাজ্য দফতরে পৌঁছে সাধারণ মানুষের অভিযোগ এবং সমস্যার কথা শোনেন তিনি।
সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বিজেপির তরফে ঘোষণা করা হয়, সল্টলেকের দলীয় দফতরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণার প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান শুভেন্দু। দফতরের দ্বিতীয় তলায় সাংবাদিক বৈঠকের ঘরেই চলে ‘জনতার দরবার’। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং শশী অগ্নিহোত্রী।
সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই কর্মসূচি। সেখানে একে একে বহু মানুষ নিজেদের সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। কেউ অভিযোগ করেন সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে, কেউ আবার ব্যক্তিগত প্রশাসনিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
বিধাননগরের বাসিন্দা সুরেশ সাউ জানান, বাড়ি তৈরির সময় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকেই বালি ও সিমেন্ট কিনতে বাধ্য করা হত। সেই অভিযোগই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শোনার পর শুভেন্দু সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এক তরুণী, যিনি পেশায় নার্স, জানান মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সময় দিয়ে কথা শুনেছেন, এতে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শোনার এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এ দিনের কর্মসূচির পর মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকেও যোগ দেন শুভেন্দু। পরে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর উপভোক্তাদের ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। যাঁরা এত দিন সুবিধা পাননি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তবে আগামী দিনে ‘জনতার দরবার’ কোথায় এবং কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি বিজেপি। সূত্রের খবর, কর্মসূচির স্থানের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
