September 4, 2026
দেশ

একবার ফি দিয়েও ফের ১.১৩ কোটি! এনআইএ টাকা বাজেয়াপ্ত করায় এমবিবিএস ডিগ্রি আটকে, সুপ্রিম কোর্টে ছাত্রী

সংবাদ কলকাতা: নিয়ম মেনে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পড়াশোনার সমস্ত ফি মিটিয়েছিলেন। এমবিবিএস কোর্স শেষ করার পর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপও সম্পূর্ণ করেছেন। কিন্তু এখনও হাতে পাননি বহু প্রতীক্ষিত ডিগ্রি। কারণ, কলেজে জমা দেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা এনআইএ বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় কলেজের দাবি, শংসাপত্র পেতে হলে আবার পুরো ফি জমা দিতে হবে। এই পরিস্থিতিকে ‘দ্বৈত শাস্তি’ বলে অভিযোগ তুলে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এমবিবিএস স্নাতক পূজা কুমারী।

পূজা কুমারীর মামলায় বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কলেজকে নোটিশ দিয়েছে। ২০১৭ সালে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চেট্টিনাড অ্যাকাডেমি অফ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন পূজা। পড়াশোনার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে কলেজকে মোট প্রায় ১.১৩ কোটি টাকা ফি হিসেবে জমা দেন তিনি।
এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এমবিবিএস কোর্স শেষ করেন পূজা। বাধ্যতামূলক রোটেটিং মেডিক্যাল ইন্টার্নশিপও সম্পূর্ণ করেন। কিন্তু তাঁর পড়াশোনা শেষ হলেও আটকে যায় চূড়ান্ত ডিগ্রি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শংসাপত্র।


ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। পূজার কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে মাওবাদী যোগের অভিযোগে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে মামলা করে এনআইএ। ওই মামলায় পূজার ভাইকেও অভিযুক্ত করা হয়। তবে পূজা নিজে ওই মামলায় অভিযুক্ত নন।

তদন্তের সময় পূজার পড়াশোনার জন্য কলেজে জমা দেওয়া অর্থকে কথিত অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে চিহ্নিত করে এনআইএ। পরে কলেজের কাছ থেকে ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর পরেই পূজার চূড়ান্ত এমবিবিএস ডিগ্রি, প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট-২ এবং কোর্স কমপ্লিশন সার্টিফিকেট আটকে যায় বলে অভিযোগ।

কলেজের বক্তব্য, পূজার কাছ থেকে যে টাকা ফি হিসেবে নেওয়া হয়েছিল, এনআইএ তা বাজেয়াপ্ত করায় কলেজ নিজেই ওই অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে শংসাপত্র দিতে হলে পূজাকে ফের পুরো ফি জমা দিতে হবে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পূজা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে একক বিচারপতি তাঁর আবেদন খারিজ করেন। পরে ২০২৬ সালের জুনে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।


হাইকোর্ট অবশ্য উল্লেখ করেছিল, সাধারণ পরিস্থিতিতে বকেয়া ফি আদায়ের নিরাপত্তা হিসেবে শিক্ষাগত শংসাপত্র আটকে রাখা যায় না। কিন্তু এই মামলার পরিস্থিতি আলাদা বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। কারণ, কলেজ নিজের ইচ্ছায় টাকা আটকে রাখেনি; তদন্তকারী সংস্থার বাজেয়াপ্তির কারণে কলেজ ওই অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালতে গিয়ে বাজেয়াপ্ত টাকা ছাড়ানোর চেষ্টা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল পূজাকে।

হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকেই এবার সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন পূজা। তাঁর মূল বক্তব্য, যে মামলায় তিনি নিজেই অভিযুক্ত নন, সেই মামলার তদন্তের আর্থিক দায় কেন তাঁকেই নিতে হবে? একবার নিয়ম মেনে ফি দেওয়ার পর তদন্তকারী সংস্থা সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই একই অর্থ আবার তাঁকেই দিতে বলা হলে কার্যত একই টাকার জন্য দু’বার অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে।

এই মামলায় তাই শুধু একজন ছাত্রীর ডিগ্রি আটকে থাকার প্রশ্ন নয়, শিক্ষার্থীর অধিকার এবং তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপের প্রভাব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠেছে। অন্য কারও বিরুদ্ধে চলা তদন্তের কারণে অভিযুক্ত নন এমন একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেই বিষয়টিই এখন সর্বোচ্চ আদালতের বিবেচনায়।

সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। ফলে পূজার এমবিবিএস ডিগ্রি এবং আটকে থাকা শংসাপত্র শেষ পর্যন্ত তিনি কবে হাতে পাবেন, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment