31.6 C
Kolkata
June 28, 2026
দেশ

ভারত-সেশেলস সম্পর্ক ‘পুরনো বন্ধুত্বের’, ভারত মহাসাগরই দুই দেশকে যুক্ত করেছে: মোদী

সেশেলসের জাতীয় সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারত ও সেশেলসের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং বহু প্রজন্মের ঐতিহাসিক বন্ধনের উপর দাঁড়িয়ে। তাঁর কথায়, ভারত মহাসাগর দুই দেশকে আলাদা করেনি, বরং একসূত্রে বেঁধেছে। তাই ভারত ও সেশেলস পরস্পরের সঙ্গে ‘অপরিচিত’ হিসেবে নয়, ‘পুরনো বন্ধু’ হিসেবে মিলিত হয়।

রবিবার সেশেলসের সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী স্মরণ করিয়ে দেন, দুই দেশের সম্পর্কের সূচনা ৫০ বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নয়। ১৭৭০ সালের আগস্টে ‘টেলেমাক’ জাহাজে করে পাঁচজন ভারতীয় সেন্ট অ্যান দ্বীপে পৌঁছেছিলেন। সেই থেকেই ভারতীয়দের উপস্থিতি ও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা আজকের ভারত-সেশেলস সম্পর্কের ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নয়, বরং সাধারণ মানুষ, পরিবার এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কই দুই দেশের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করেছে। সেশেলসের বহু ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।

সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির হাত থেকে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ সম্মান গ্রহণ করে মোদী বলেন, এই সম্মান পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা সকলের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি জানান, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর ছিল সেশেলসে। সেই সময় যেমন দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব ছিল, এক দশক পর তা আরও বেড়েছে।

সেশেলসের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস নীলগিরি উপস্থিত ছিল। আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বর্তমানে আইএনএস তারকাশ ও আইএনএস ইক্ষক পোর্ট ভিক্টোরিয়ায় অবস্থান করছে, যা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক।

তিনি বলেন, ভারত সেশেলসের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের পেশাদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলের শান্তি রক্ষায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে চলেছে।

Related posts

Leave a Comment