September 4, 2026
রাজ্য

বেনিয়াপুকুরে ভুয়ো কল সেন্টারে সাইবার পুলিশের হানা, পেপ্যাল আধিকারিক সেজে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার অভিযোগ

সংবাদ কলকাতা: কসবার রাজডাঙার পর এবার বেনিয়াপুকুরে ভুয়ো কল সেন্টারের হদিশ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক বেআইনি কল সেন্টারের সন্ধান পাওয়ার মধ্যেই শুক্রবার ভোরে বেনিয়াপুকুর থানা এলাকার একটি আবাসনে অভিযান চালাল কলকাতা পুলিশের সাইবার থানার আধিকারিকেরা। অভিযানে ওই ফ্ল্যাট থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ধৃতরা নিজেদের পেপ্যালের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ফোন করে সাইবার প্রতারণা চালাত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেনিয়াপুকুর লেনের সানি রক ভিলার পাঁচ তলার ৫বি নম্বর ফ্ল্যাটে ওই ভুয়ো কল সেন্টারটি চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর শুক্রবার ভোররাতে সেখানে হানা দেন সাইবার থানার আধিকারিকেরা। তল্লাশির সময় ফ্ল্যাট থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র, নথি এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে নিজেদের পেপ্যালের আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কম্পিউটারে রিমোট অ্যাক্সেস নেওয়া হত। এরপর ওই কম্পিউটার থেকে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং গোপনীয় নথি সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে।


তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, হাতিয়ে নেওয়া তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বৈধ অর্থ বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়া হত। পরে সেই টাকা অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অথবা বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হত বলে পুলিশের দাবি।

অভিযানের সময় পাঁচটি মোবাইল ফোন, চারটি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব, ছটি চেকবই এবং নগদ ১০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর পাশাপাশি প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় মহম্মদ আনাস, বয়স ২৮ বছর, আয়ান হোসেন, বয়স ২০ বছর এবং সৈয়দ জায়েদ, বয়স ১৯ বছরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনজনই ওই প্রতারণা চক্রের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বরের সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে সাইবার থানায় মামলায় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং গোটা চক্রের কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা এখন উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব এবং অন্যান্য নথি পরীক্ষা করছেন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তারও খোঁজ চলছে। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে মোট কত টাকা হাতানো হয়েছে এবং সেই টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্ট বা মাধ্যমে সরানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।


কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখার নজরদারিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়ো কল সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বেনিয়াপুকুরের এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ এবং একাধিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সূত্র ধরে তদন্ত আরও এগোতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment