September 13, 2026
কলকাতা

পুজোর মুখে কলকাতায় ডেঙ্গির আতঙ্ক, হাজার পেরোল আক্রান্তের সংখ্যা

সংবাদ কলকাতা: শহর যখন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, মণ্ডপ তৈরি থেকে কেনাকাটা—সব মিলিয়ে ক্রমশ উৎসবের আবহ তৈরি হচ্ছে, তখনই চুপিসারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। কলকাতায় ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার পেরিয়েছে। পুজোর মুখে সংক্রমণ যাতে সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দে ছায়া না ফেলে, সে জন্য বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার মোট ১৬টি বোরোর মধ্যে পাঁচটি বোরোতেই জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২, ৭, ৮, ৯ এবং ১৬ নম্বর বোরোতে মিলিয়ে মোট জ্বরে আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৬৮ শতাংশের হদিশ মিলেছে। ফলে এই এলাকাগুলিতে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

মশার লার্ভা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও কয়েকটি বোরো উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ১৬ নম্বর বোরো। সেখানে ২৮১টি জায়গায় মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে। ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মীরা ওই সমস্ত জায়গায় লার্ভা নষ্ট করার ব্যবস্থা করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১০ নম্বর বোরো। সেখানে ২২৪টি জায়গায় লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। ৯ নম্বর বোরো রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সেখানে ১৪৪টি জায়গায় মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে।


শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকা নয়, ডেঙ্গির উৎস খুঁজতে শহরজুড়ে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিন দিনের বিশেষ অভিযানে ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মীরা প্রায় ৯৩ হাজার পাত্র পরীক্ষা করেছেন। সেখান থেকে প্রায় ১,৮০০টি ডেঙ্গির লার্ভার সন্ধান মিলেছে। একই সময়ে প্রায় ৩২,৫০০টি বাড়িতে গিয়ে ডেঙ্গি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

নির্মীয়মাণ বাড়ি এবং দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ফাঁকা জমিও পুরসভার নজর এড়ায়নি। বিশেষ অভিযানে ৬৮টির বেশি নির্মীয়মাণ বাড়িতে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। পাশাপাশি জঞ্জালে ভর্তি ৪২টি ফাঁকা জমিতেও কর্মীরা গিয়েছেন। মশার বংশবিস্তারের সম্ভাবনা কমাতে ২২টি মজে যাওয়া পুকুরও পরিষ্কার করা হয়েছে।

পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মীরা বিশেষ করে জঞ্জাল জমে থাকা এলাকাগুলিতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আবর্জনার স্তূপে বৃষ্টির জল জমে গেলে সেখানে ডেঙ্গি মশার ডিম পাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা জঞ্জাল সাফাই বিভাগের সাহায্যে এমন জায়গাগুলি পরিষ্কার করাচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় মশারি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গি প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানো হচ্ছে।


কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে ধীরে ধীরে ডেঙ্গির প্রকোপও কমার সম্ভাবনা থাকে। তবে বর্তমান সময়টিই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সময়ে পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।

পুরসভার তরফে বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া এবং আবর্জনা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা অন্য কোনও জায়গায় জল জমে রয়েছে কি না, নিয়মিত তা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত ওয়ার্ড স্বাস্থ্য ইউনিটের চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুরসভা। পুজোর আনন্দের মধ্যেও ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সতর্কতাকেই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

Related posts

Leave a Comment