30 C
Kolkata
October 23, 2026
রাজ্য

ঝাড়গ্রামের উন্নয়নে ৩৪২ কোটি

সংবাদ কলকাতা: ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ নজর রাজ্য সরকারের। জেলার উন্নয়নের জন্য মোট ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি লোধা-শবর সম্প্রদায়ের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে প্রতি সপ্তাহে বাড়ি বাড়ি বিশেষ খাবারের কিট পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের সূচনা করলেন তিনি। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার কালাঝারিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। দাবি করা হয়েছে, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী ওই গ্রামে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিলেন।

রাজ্য বাজেট পেশের সময় জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে বিশেষ পুষ্টিকর খাবারের কিট পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এদিন সেই প্রকল্পই বাস্তবায়নের পথে এগোল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেশন পরিষেবার বাইরে অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে প্রতি সপ্তাহে উপভোক্তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে খাবারের প্যাকেট। তাতে থাকবে চাল, ডাল, তেল ও সয়াবিন। এই উদ্যোগের ফলে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৪৫ হাজার এবং ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।



এদিন ঝাড়গ্রামের উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জেলার সার্বিক উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও জনজাতি পড়ুয়াদের জন্য আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঝাড়গ্রামের দুই লক্ষ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে তফসিলি জনজাতি বা এসটি বৃত্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’ চালুর কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, জনজাতি সম্প্রদায়ের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষের জন্য ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা নতুন করে জবকার্ড নিতে চান, তাঁদের নতুন করে জবকার্ড দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম জেলায় ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯০৩ জন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।


পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আগের সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার কেন্দ্রের বহু কর্মসূচিতে যুক্ত হয়নি এবং গোটা পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়নের কাজও যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান সরকার পশ্চিমাঞ্চলকে বঞ্চিত করবে না বলে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, এই এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন।

জনজাতি সম্প্রদায়ের পুষ্টি, পড়াশোনা, কর্মসংস্থান এবং জেলার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই ঝাড়গ্রামে একাধিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে উন্নয়নের কাজ কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Related posts

Leave a Comment