নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর— পুজোর ছুটিতে মন্দারমণি বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হাওড়ার দুই যুবক। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেলেন বাঁকড়ার বাসিন্দা শাহিল খান ও শাহিদ খান। দীর্ঘ তল্লাশির পর শাহিলের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে শাহিদ এখনও নিখোঁজ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। এই ঘটনায় দুই যুবকের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাঁকড়া এলাকার বাসিন্দা শাহিল ও শাহিদ, দু’জনেরই বয়স ২২ বছর। সম্পর্কে তাঁরা মামা-ভাগ্নে। বুধবার বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে মন্দারমণি গিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের দলে মোট ছ’জন ছিলেন। পুজোর ছুটিতে সমুদ্রের টানে মন্দারমণি পৌঁছলেও সেই বেড়ানো যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা ভাবতেও পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন শাহিল ও শাহিদ। তাঁদের সঙ্গে থাকা বাকি চার বন্ধু হোটেলে ছিলেন বলে দাবি। দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল দুই যুবকের। তার কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্নান করার সময় আচমকাই জলের তোড়ে তলিয়ে যান দু’জন।

ঘটনার খবর পেয়ে তৎপর হয় মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। শুরু হয় তল্লাশি। দীর্ঘ চেষ্টার পর শাহিলের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু শাহিদের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
দুই যুবকই পেশায় দর্জি ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মন্দারমণির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। একদিকে শাহিলের মৃত্যুর খবর, অন্যদিকে শাহিদের নিখোঁজ থাকার উদ্বেগ— সব মিলিয়ে দুই পরিবারে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে জলে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এল এই ঘটনা। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে দুই যুবক তলিয়ে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শাহিদের খোঁজে তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের উৎকণ্ঠা কাটার সম্ভাবনা নেই।
