সংবাদ কলকাতা: আগামী বছর দুর্গাপুজো থেকে আর টানা ছুটির সুযোগ পাবেন না রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা। ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত রীতি বন্ধ করার কথা ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার দ্বাদশীর দিন তিনি জানান, আগামী বছর থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীতে বিশেষ রোস্টার মেনে হাসপাতালের পরিষেবা চালু রাখা হবে। জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। হাসপাতাল এমন একটি পরিষেবা, যেখানে ছুটির দিনেও রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকেই সরকারি হাসপাতালগুলিতে ছুটির আবহ তৈরি হত। সেই রেশ চলত লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা এই অঘোষিত রীতির এবার অবসান ঘটাতে চাইছে রাজ্য সরকার।
শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটির যে প্রচলন তৈরি হয়েছিল, তা আর চলতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, আগামী বছর থেকে পুজোর চারটি প্রধান দিন—সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী—বিশেষ রোস্টারের আওতায় থাকবে। ইতিমধ্যেই যাঁরা ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বছর থেকেই সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে কাজে ফেরার ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। তাঁর বক্তব্য, মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট থেকে শুরু করে সাফাইকর্মী—সব স্তরের কর্মীদেরই কাজে ফিরতে হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ছুটির রেওয়াজ বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে সেই পদক্ষেপেরই অংশ হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার।
পুজোর চার দিনের পরিষেবা সচল রাখতে বিশেষ কর্মী-রোস্টারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী বছর সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত অ-চিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যার প্রায় অর্ধেক রেখে পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আগাম নির্দিষ্ট রোস্টার থাকবে না। হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে রোগীদের চিকিৎসায় কোনও ঘাটতি না হয়।
এই সিদ্ধান্তে সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের ছুটির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির যে প্রচলন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল, তা আর আগের মতো থাকবে না। তবে বিশেষ রোস্টারের চূড়ান্ত নিয়ম কী হবে এবং বিভিন্ন হাসপাতালের ক্ষেত্রে তা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকার দিকেও নজর থাকবে।
