নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি— উপপ্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত জলপাইগুড়ির বানারহাট ব্লকের শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভিতরে প্রধান নবীন রায়কে চড়, থাপ্পড় ও লাথি মেরে বার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ, উপপ্রধান নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী প্রধান নবীন রায়-সহ কয়েক জন সদস্যকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াতেও তাঁদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পঞ্চায়েত কার্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর কয়েক জন প্রধানের উপর চড়াও হন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি এক পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধর করছেন। তাঁকে চড়, থাপ্পড় ও লাথি মারতে দেখা যায়। পরে কয়েক জন পুলিশকর্মী ওই ব্যক্তিকে কার্যালয় থেকে বার করে নিয়ে যান। ভিডিয়োয় দেখা যাওয়া ওই ব্যক্তিকে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি নেতা কৌশিক নন্দী বলে দাবি করেছেন অনেকে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৌশিক।

ঘটনার পিছনে আলিপুরদুয়ারের কয়েক জন বিজেপি নেতা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত প্রধান নবীন রায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। তাদের উপস্থিতির মধ্যেই পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভিতরে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
আক্রান্তদের আরও অভিযোগ, ঘটনার ভিডিয়ো মোবাইলে রেকর্ড করছিলেন এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশ ফোনটি নিয়ে নেয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ঘটনা নিয়ে বিজেপির ধূপগুড়ির বিধায়ক নরেশচন্দ্র রায় বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এই ধরনের ঘটনা কেউ ঘটিয়ে থাকে, যদি মাদারিহাট বিধানসভা এলাকার কোনও নেতা এসে ধূপগুড়ি মহকুমার বোর্ড গঠনে মস্তানি বা গুন্ডামি করে থাকে, তবে তা বরদাস্ত করা হবে না। দল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আপাতত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিধায়কের কথায়, ‘আজকে বোর্ড গঠনের কাজ হয়নি, এই খবর পেয়েছি। আগামীতে তারিখ ঠিক করে আবার ওই প্রক্রিয়া হবে।’উপপ্রধান নির্বাচনকে কে
ন্দ্র করে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা এই ঘটনায় জড়িত এবং কেন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া থমকে গেল—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ভিডিয়ো ও অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
