নয়াদিল্লি— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের সুর আরও চড়াতে চাইছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ অনিয়ম এবং ‘ভোটচুরি’-র অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ও বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধী সাংসদেরা।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচির ধরন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে বুধবারের মতো এ দিনও বিরোধী সাংসদদের মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে। দিল্লির কনট প্লেসের একটি হোটেলে দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ ওই বৈঠক হওয়ার কথা। বুধবারের কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলেও বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে সমাজবাদী পার্টি যোগ দিতে পারে বলে বিরোধী শিবির সূত্রে খবর।

বিরোধীদের কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক দিল্লি পুলিশও। সংসদ মার্গ, অশোক রোড, জনপথ রোড-সহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার যে এলাকায় বিরোধী সাংসদেরা জমায়েত করেছিলেন, সেখানেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এসআইআর-এ অনিয়ম এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। বৃহস্পতিবার বিহারের পটনায় লোকভবন, অর্থাৎ প্রাক্তন রাজভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। লোকভবনে পৌঁছনোর আগেই পুলিশ বিরোধীদের মিছিল আটকে দেয়। এর পর ব্যারিকেডে উঠে পড়েন তেজস্বী। আরজেডি ও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়।

পরিস্থিতির মধ্যে তেজস্বী যাদব, আরজেডি সাংসদ মিসা ভারতী এবং ভিআইপি দলের প্রধান মুকেশ সাহনিকে আটক করে পুলিশ। পরে তেজস্বী অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করছে বিহার সরকার। তাঁর বক্তব্য, ‘এই সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করছে। সব জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। আমাদের এগোতে দেওয়া হচ্ছে না।’
‘ভোটচোরদের’ শাস্তি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তেজস্বী। বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ একে-৪৭ নিয়ে এসেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিহারের পাশাপাশি তেলঙ্গানাতেও ‘ইন্ডিয়া’-র লোকভবন অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি এবং এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হয় কি না, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
