কলকাতা | ১৮ জুন: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রাক্কালে যোগের বিশ্বব্যাপী প্রসার এবং স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক অবদানকে তুলে ধরে বিশেষ নিবন্ধ লিখলেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) তথা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য হিসেবে যোগের যে বিশ্বস্বীকৃতি আজ দেখা যাচ্ছে, তার অন্যতম ভিত্তি স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা এবং পশ্চিমে যোগ দর্শনের প্রচার।
নিবন্ধে যোগের উৎপত্তি, দর্শন এবং বিকাশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ঋগ্বেদ, উপনিষদ, পতঞ্জলির যোগসূত্র এবং ভগবদ্গীতার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যোগ শুধুমাত্র শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং আত্মসচেতনতা, আধ্যাত্মিক উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণের একটি সামগ্রিক দর্শন।
লেখকের মতে, ঔপনিবেশিক যুগে ভারতীয় জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন ধারার মতো যোগও একসময় উপেক্ষিত হতে শুরু করেছিল। সেই সময় স্বামী বিবেকানন্দ পশ্চিমা বিশ্বের সামনে ভারতীয় দর্শন, বেদান্ত ও যোগের প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরেন। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা বিশ্বজুড়ে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি করে।
নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিবেকানন্দের ‘রাজযোগ’ গ্রন্থ পশ্চিমা সমাজে যোগ দর্শনকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে বেলুড় মঠে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যোগ, বেদান্ত ও মানবসেবার আদর্শকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেন, এটি যেন যোগের এক প্রতীকী প্রত্যাবর্তন। শিকাগো থেকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে পড়া যোগের বার্তা আজ আবার হুগলির তীরে নতুন তাৎপর্য নিয়ে ফিরে এসেছে।
