রাজস্থানের বালোত্রা জেলার পাচপদরায় রাজস্থান রিফাইনারি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করলেন, ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রিফাইনিং ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সফলভাবে মোকাবিলা করেছে ভারত।
১.০৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। একাধিক দেশে জ্বালানির ঘাটতি ও রেশনিং দেখা দিলেও ভারতে একদিনের জন্যও পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়নি।
মোদীর দাবি, কেন্দ্র সরকার আবগারি শুল্ক লিটারপিছু ১০ টাকা কমিয়ে এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়তে দেয়নি। পাশাপাশি এলপিজির আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও উজ্জ্বলা প্রকল্পের উপভোক্তারা ৬৫০ টাকারও কম দামে গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছেন এবং সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও দাম ৯০০ টাকার নিচে রাখা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের সময় দেশের রিফাইনারিগুলিতে দ্রুত উৎপাদন পদ্ধতি বদলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে এলপিজি উৎপাদন ৩৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলপিজির উপর নির্ভরতা কমাতে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ২৫-২৬টি দেশের পরিবর্তে ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম ব্যাগপিছু ৩ হাজার টাকার বেশি হলেও কেন্দ্রীয় ভর্তুকির ফলে ভারতীয় কৃষকরা প্রায় ৩০০ টাকায় ইউরিয়া পেয়েছেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে মোদী জানান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সময় এমএসএমই-গুলিকে অতিরিক্ত ঋণ দিতে সম্প্রসারিত ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (ECLGS) চালু করা হয়েছে। ব্যাঙ্কগুলিকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে কেন্দ্র।
ভাষণে কংগ্রেসকেও নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজস্থান রিফাইনারির কাজ বিলম্বিত হয়েছিল। বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়েছে। বিজেপি শুধু শিলান্যাস করে না, প্রকল্প সম্পূর্ণও করে— বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন রাজস্থানের জলসংকট মোকাবিলায় যমুনার জল শেখাওয়াতি অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা, জল জীবন মিশন, রামজল সেতু প্রকল্প, জয়পুর মেট্রোর সম্প্রসারণ, জোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল এবং উড়ান প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সৌরশক্তি উৎপাদনে রাজস্থানের অগ্রগতির উল্লেখ করে জানান, ইতিমধ্যেই দেড় লক্ষের বেশি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ৬৫ হাজারেরও বেশি সৌরচালিত পাম্প কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
