31.1 C
Kolkata
August 8, 2026
দেশ

প্রতিরক্ষা তথ্য পাচারের অভিযোগে বায়ুসেনার উইং কমান্ডার গ্রেপ্তার

‘হানি ট্র্যাপ’-এর তদন্তে দিল্লি পুলিশ

দিল্লি: দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় বায়ুসেনার এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে পরিচিত এক মহিলার মাধ্যমে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর ফাঁদে পড়ে ওই আধিকারিক সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বাহিনীর গোয়েন্দা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে। সেই চক্রের সন্ধান করতে গিয়ে ওই উইং কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর দীর্ঘ নজরদারির পর তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ, সমাজমাধ্যমে ওই আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা মহিলা পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথমে ব্যক্তিগত কথোপকথনের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে ওই আধিকারিকের বিশ্বাস অর্জনের পর বাহিনী সংক্রান্ত তথ্য, ছবি এবং ভিডিয়ো চাওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ওই মহিলার পরামর্শে উইং কমান্ডার তাঁর এক সহকর্মীর মোবাইল ফোনে তথ্য চুরির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে এমন একটি বিশেষ সফটওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মোবাইলের তথ্য, অবস্থান এবং কথোপকথনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের তদন্তে এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ওই আধিকারিক ঠিক কী কী তথ্য দিয়েছেন এবং সেই তথ্যের পরিমাণ কতটা। একই সঙ্গে বাহিনীর আরও কোনও সদস্যকে এই চক্রের মাধ্যমে নিশানা করা হয়েছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বায়ুসেনার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আধিকারিককে বেশ কিছুদিন ধরেই নজরে রাখা হয়েছিল। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কিছু সমস্যা চলছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও তদন্তে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যের সম্ভাব্য পাচারের বিষয়টি সামনে আসায় তদন্তকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment