July 22, 2026
রাজ্য

২৫ জুলাই বিধানসভায় পেশ হবে আমপান দুর্নীতির ক্যাগ রিপোর্ট, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআরের সুপারিশের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

সংবাদ কলকাতা— আমপান ত্রাণ বণ্টিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তৈরি নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষকের (Comptroller and Auditor General of India (CAG)) বিশেষ রিপোর্ট আগামী ২৫ জুলাই বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার বিধানসভায় তিনি জানান, রিপোর্টে যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসবে, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনা না করেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর দায়েরের সুপারিশও করা হবে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেটের উপর আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা এবং তা নিয়ে আলোচনা বাধ্যতামূলক হলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি। এবার ২৫ জুলাই রিপোর্ট পেশ করার পর পরবর্তী অধিবেশনে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। রিপোর্টে যেখানে যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে জানান তিনি।

আমপান পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দুই দফায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। সেই অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়ার পর বিশেষ ক্যাগ নিরীক্ষা করা হলেও সেই রিপোর্ট এতদিন প্রকাশ্যে আনা হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code (UCC)) নিয়ে প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই (Justice Ranjana Prakash Desai)-এর নেতৃত্বাধীন কমিটির রিপোর্ট হাতে এলেই প্রয়োজনীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আমপান সংক্রান্ত ক্যাগ রিপোর্টও বিধানসভায় আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের পথ নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে যাঁদের নাম উঠে আসবে, তাঁরা যত প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীই হোন না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন’ বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের বিভিন্ন আইনসিদ্ধ কমিশনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, শিশু সুরক্ষা কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতি কমিশনের মতো একাধিক প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। আগামী ১ আগস্ট থেকে এই কমিশনগুলি পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করবে এবং অভিযোগ গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।

Related posts

Leave a Comment