মুম্বাই—গণেশ পুজোর প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল মুম্বাইয়ে। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ভূলেশ্বর এলাকায় গণেশমূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রার সময় আচমকা উল্টে পড়ল বিশাল মূর্তি বহনকারী কাঠামো। তার নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আহত পাঁচ জনের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫১ মিনিট নাগাদ ভূলেশ্বরের জয় আম্বে চৌকের কাছে কবুতরখানা এলাকায় বালারাম মার্চেন্ট রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ‘ভূলেশ্বরচা রাজা’ নামে পরিচিত বিশাল গণেশমূর্তি মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার জন্য শোভাযাত্রা চলছিল। সেই সময় মূর্তি বহনকারী কাঠামোটি আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। কাঠামোটি ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষের উপর পড়তেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গণেশমূর্তিটির উচ্চতা ২২ ফুটের বেশি। এত বড় মূর্তি বহনকারী কাঠামো কীভাবে ভারসাম্য হারাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় মৃত দু’জনের নাম সঙ্কেত নেভশে এবং ব্রিজেশ হেমন্ত যোশী। সঙ্কেতের বয়স ৩৩ বছর এবং ব্রিজেশের বয়স ৩০ বছর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
আহত পাঁচ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩৮ বছরের বৈভব, ২৫ বছরের পবন চৌরাসিয়া এবং ২৬ বছরের কুণাল কাশিদ। আহত হয়েছেন পাঁচ ও সাত বছরের দুই শিশুকন্যা লাবণ্য গানের এবং দিব্যা গানেরও। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পাঁচ আহতের সকলের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুম্বই দমকল, মুম্বই পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, পুরসভার কর্মী এবং জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। উদ্ধারকারী দল কাঠামোর নীচে চাপা পড়া মানুষদের বের করে আনে। আহতদের দ্রুত কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রথম দিকে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, দুর্ঘটনায় মোট দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

মুম্বাইয়ের অন্যতম বড় উৎসব গণেশ পুজো। উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই মূর্তি নিয়ে আসা এবং মণ্ডপ তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বড় আকারের গণেশমূর্তি বহনের সময় কাঠামোর নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গণেশমূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রার সময় যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের।
