পারাদ্বীপ—ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল পানামার পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’। জাহাজটি ওড়িশা থেকে আকরিক লোহা নিয়ে সিঙ্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে লাইফবোটের মাধ্যমে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ২২ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং নৌসেনার তল্লাশি অভিযান চলছে।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে জাহাজটির সঙ্গে স্থলভাগের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর উদ্ধারকারী দল বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট নাগাদ বিষয়টি জানতে পারে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ওই এলাকায় থাকা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকেও ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাত ৮টা নাগাদ জাহাজটির কাছাকাছি একটি লাইফবোট থেকে দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁরা জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হলেও তাঁদের শারীরিক অবস্থা এবং পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বাকি নাবিকদের খোঁজে এরপর আরও জোরদার করা হয় তল্লাশি।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনটি উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়েছে। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ‘বিজিত’ নামের একটি জাহাজ পাঠানো হয়। পাশাপাশি ‘বরদ’ এবং ‘আনমোল’ নামের আরও দু’টি জাহাজ উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। রাতভর সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও বাকি নাবিকদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন চিনের নাগরিক। এছাড়া এক জন বাংলাদেশের নাগরিক এবং তিন জন মায়ানমারের বাসিন্দা ছিলেন। ফলে নিখোঁজ নাবিকদের মধ্যে একাধিক দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে ভারতীয় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি সমুদ্রপথে অভিযান চালাচ্ছে।
তবে কী কারণে জাহাজটি ডুবে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যাত্রাপথে জাহাজটির কোনও যান্ত্রিক সমস্যা হয়েছিল কি না, নাকি সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাহাজ ডোবার সময় ওই এলাকায় বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া কেমন ছিল, সেই তথ্যও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

জাহাজটির ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জাহাজটি আকরিক লোহা নিয়ে যাত্রা করছিল বলে সেটির মাল বহনের ভারসাম্য, জাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং সমুদ্রের পরিস্থিতি—সব দিকই তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নিখোঁজ ২২ নাবিককে দ্রুত খুঁজে বের করা। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালাতে উদ্ধারকারী জাহাজগুলির পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাব্য সহায়তাও কাজে লাগানো হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজডুবির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।
